আকাশজুড়ে তখন মেঘের ঘনঘটা। যেকোনো সময় নামবে ঝুম বৃষ্টি।
ঘরের জানালা দিয়ে আকাশের সেই রুদ্ররূপ দেখে বুকটা কেঁপে উঠেছিল সাহানারা বেগমের। নিজের জন্য নয়, তার চিন্তা হচ্ছিল জন্মদাত্রী মা আছিয়া খাতুনের জন্য। মা যে তখন বাড়ির পাশের একটি ঘেরে মাছ ধরছিলেন। মেঘের ডাক আর বিদ্যুতের চমকানি দেখে মন আর ঘরে টেকেনি সাহানারার।
ছুটে গিয়েছিলেন মাকে নিরাপদে বাড়ি ফিরিয়ে আনতে। মাকে সঙ্গে নিয়ে হাসিমুখে বাড়ির পথও ধরেছিলেন। কিন্তু মাকে নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরিয়ে আনলেও, নিজে আর ফিরতে পারলেন না জীবন্ত। পথেই এক আকস্মিক বজ্রাঘাতে নিভে গেল এই মেয়ের জীবন প্রদীপ।
বুধবার (২৭ মে) সকালে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের পার্শ্বেমারী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সাহানারা বেগম (৩৮) ওই গ্রামের জাকের আলী মোল্লার মেয়ে।
মৃতের চাচাতো ভাই শাহ-আলম মোল্লা জানান, প্রতিদিনের মতো বুধবার সকালেও সাহানারার মা আছিয়া খাতুন পাশের একটি ঘেরে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। মেঘের ডাক শুনে মায়ের নিরাপত্তার কথা ভেবে ঘর থেকে বের হন সাহানারা। ঘেরে পৌঁছে মাকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ির দিকে রওনাও হন তিনি। কিন্তু বাড়ি পৌঁছানোর ঠিক আগ মুহূর্তে এক বিকট শব্দে ধেয়ে আসে বজ্রপাত। ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন সাহানারা।
গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাছুদুল আলম বলেন, আমার ইউনিয়নের পার্শ্বেমারী গ্রামে বজ্রপাতে একজন নারী মারা গেছেন। ঈদের ঠিক আগের দিন এমন একটি হৃদয়বিদারক মৃত্যু সংবাদ আমাদের সবাইকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে। আমরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।