1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৫৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম
রাশিয়ার সঙ্গে ১২০ কোটি ডলারের নতুন মিসাইল চুক্তির পথে ভারত হরমুজ প্রণালিতে মাইন অপসারণ ও অস্থায়ী নৌপথ তৈরিতে ইরান-কাতার আলোচনা রাজধানীর বাজারে সবজির দাম কিছুটা কমলেও অস্বস্তি কাটছে না নিত্যপণ্যের বাজারে আগামী সোমবার মন্ত্রিসভায় উঠতে পারে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেল মাদুরো-পরবর্তী ভেনেজুয়েলা: স্বৈরাচারমুক্ত হলেও অর্থনৈতিক সংকটে দিশেহারা সাধারণ মানুষ নেপাল-তিব্বত সীমান্তে বন্যা: নিখোঁজ ও উদ্ধার হওয়া নাগরিকদের সর্বশেষ তথ্য নেপালে পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ৫৪৭ ২০২৮ সালের মধ্যে এ৩৮০ উড়োজাহাজ অবসরে পাঠাচ্ছে কান্তাস এয়ারওয়েজ প্রেক্ষাপট: তিক্ততা ভুলে কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চায় ইরান চাঁপাইনবাবগঞ্জে মরা পাগলা নদীতে গোসলে নেমে পাঁচ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

কিসের টানে পতেঙ্গা সৈকতে ছোটেন এত মানুষ, কী আছে

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬

বিকেলের আলো তখন ধীরে ধীরে নরম হয়ে আসছে। সমুদ্রের দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে শত শত মানুষ। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে হাঁটছেন সৈকতের পাড় ধরে। এর মধ্যেই ছোট মেয়ের হাত ধরে দাঁড়িয়ে ছিলেন ইদ্রিস আলী। হঠাৎ মেয়েটি দূরে সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে বলে উঠল, ‘বাবা দেখো, দূরে জাহাজ।’

পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে শুক্রবার চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে গিয়ে দেখা যায়, পর্যটকদের পদচারণে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। দুপুরের পর থেকে বাড়তে থাকে মানুষের ভিড়। দূরদূরান্ত থেকে আসা মানুষের উপস্থিতিতে সরগরম হয়ে ওঠে সমুদ্রপাড়।

রাউজান উপজেলা থেকে স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে ঘুরতে এসেছেন ইদ্রিস আলী। মেয়ের জন্য কিনেছেন বেলুন, খেলনা ও আইসক্রিম। তিনি বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে মেয়েকে নিয়ে একটু ঘুরতে এসেছি। সমুদ্র দেখে ও খুব খুশি।’

সৈকত থেকে তাকালেই দেখা যাচ্ছিল সমুদ্রের বুকে নোঙর করে থাকা ছোট ছোট জাহাজ। শিশুদের অনেকেই মুগ্ধ হয়ে সেদিকে তাকিয়ে ছিল।

সৈকতের হাঁটার পথজুড়ে ছিল মানুষের ঢল। কেউ পাথরের বাঁধে বসে সমুদ্র দেখছিলেন, কেউ ছবি তুলছিলেন। অনেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে হাঁটছিলেন। আবার কেউ ঢেউয়ের কাছে গিয়ে মোবাইল ফোনে স্মৃতি ধরে রাখছিলেন।

সবচেয়ে বেশি আনন্দে ছিল শিশুরা। বেলুন হাতে দৌড়ঝাঁপ, ট্রেন রাইড, নাগরদোলা কিংবা ঘোড়ার পিঠে চড়ে সৈকত ঘোরা—সব মিলিয়ে উৎসবের আবহ তৈরি হয় সেখানে। শিশুদের হাসি আর চিৎকারে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

সাত বন্ধুর একটি দল এসেছিল নগর ঘুরতে। তাঁদের একজন মোহাম্মদ রিদুয়ান। নগরের নিউমার্কেট এলাকায় চাকরি করেন তিনি। বন্ধুদের নিয়ে ঈদের ছুটিতে বেরিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘কর্ণফুলী টানেল ঘুরে পতেঙ্গায় এসেছি। অনেক দিন পর সবাই একসঙ্গে সময় কাটাচ্ছি।’

কেউ কেউ ঘুরে বেড়ান স্পিটবোটে চড়ে। আজ বিকেলে

কেউ কেউ ঘুরে বেড়ান স্পিটবোটে চড়ে। আজ বিকেলে

বিকেলে সমুদ্রের বাতাসে ভেসে আসছিল কাঁকড়া ফ্রাই, ঝালমুড়ি, চটপটি ও ভাজাপোড়ার গন্ধ। খাবারের দোকানগুলোতে ছিল উপচে পড়া ভিড়। কেউ কাঁকড়া ফ্রাই খাচ্ছিলেন, কেউ ফুডকোর্টে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। আবার অনেকে ঝালমুড়ি কিংবা বাদামের ঠোঙা হাতে সমুদ্র দেখছিলেন।

নগরের চকবাজার এলাকা থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছিলেন মহিবুর রহমান। তাঁকে দেখা যায় নাগরদোলার পাশে মেয়েকে নিয়ে অপেক্ষা করতে। হাসতে হাসতে তিনি বলেন, ‘বাচ্চারা অনেক দিন ধরে সমুদ্রে আসার জন্য বায়না করছিল। ঈদের ছুটিতে তাই সবাইকে নিয়ে চলে এলাম। ওদের আনন্দ দেখেই ভালো লাগছে।’

চট্টগ্রাম নগরের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে পৌঁছানো যায় একাধিক পথে। নগরের মুরাদপুর, আগ্রাবাদ, বন্দর ও ইপিজেড হয়ে সরাসরি সড়কপথে যাওয়া যায় সেখানে। আবার ফৌজদারহাট বা হালিশহর হয়ে মেরিন ড্রাইভ ধরেও পৌঁছানো যায় সৈকতে। সমুদ্রঘেঁষা এই সড়কের দুই পাশে দেখা মেলে জলরেখা, পাথরের বাঁধ আর ঢেউয়ের খেলা। তাই অনেকেই গন্তব্যের পাশাপাশি পথের সৌন্দর্য উপভোগ করতেও এই সড়ক বেছে নেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun