জেলার বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা, বিএনপির প্রবীণ নেতা এমডি আকবর আজাদ (৭৫) আর নেই। গতকাল শনিবার (১৩ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে খুলনার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
মৃত্যুকালে তিনি রাজনৈতিক সহকর্মী, আত্মীয়-স্বজন, গুণগ্রাহী ও অসংখ্য শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।
আজ সকাল ১১ টায় বারুইপাড়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে মরহুম আকবর আজাদের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাঁর নিজ গ্রাম বারুইপাড়ায় পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এর আগে রাষ্ট্রীয় তাকে মর্যাদায় অভিষিক্ত করা হয়।
তাঁর নামাজে জানাজায় বাগেরহাট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার এটি এম আকরাম হোসেন তালিম, সদস্য সচিব মোজাফফর রহমান আলম, জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন সহ বিএনপি ও তাঁর সব অঙ্গ সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতা কর্মী এবং তাঁর দীর্ঘদিনের সহযোদ্ধা মুক্তিযোদ্ধারা অংশ নেন।
মরহুম এমডি আকবর আজাদ ছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন সাহসী সংগঠক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি জাগদল থেকে শুরু করে বারুইপাড়া ইউনিয়নে বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে তুলতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তৃণমূল পর্যায়ে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির বিকাশে তাঁর অবদান স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আজও স্মরণীয় হয়ে আছে।
তিনি বারুইপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন জনসেবায় নিয়োজিত ছিলেন। এছাড়া তিনি জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল বাগেরহাট জেলা শাখার সভাপতি এবং মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের বাগেরহাট জেলা কমান্ডারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
তাঁর মৃত্যুতে বাগেরহাটের রাজনৈতিক, সামাজিক ও মুক্তিযোদ্ধা অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান এবং মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন।
স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বলেন, এমডি আকবর আজাদ ছিলেন আদর্শিক, সৎ ও জনমুখী নেতৃত্বের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং জনকল্যাণে নিবেদিত ভূমিকা আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।