1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ১১:৩৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম
কথায় নয়, কাজের মাধ্যমে আগামীর বাংলাদেশ গড়তে চাই : প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ নাম ও বয়স সংশোধনে দালালচক্র থেকে সাবধান : ঢাকা শিক্ষা বোর্ড সরকার বিচার বিভাগকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে চায় : অ্যাটর্নি জেনারেল যশোরে ৩১টি স্বর্ণের বার জব্দ, আটক ২ বিউটিফিকেশন ব্যবসায় শরীয়তপুরের সায়মা আক্তার স্বাবলম্বী নাটোরে আইটি বেইজ স্কাউট ট্রেনিং সেন্টারের নির্মাণ কাজ শুরু রাঙামাটিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শিক্ষিকার মৃত্যু রাজধানীতে বিভিন্ন অপরাধে গ্রেফতার ১৭ নেত্রকোণায় দুস্থ ও অসহায় ব্যক্তিদের মধ্যে অনুদান বিতরণ  টাঙ্গাইলে সেফটিক ট্যাংকে পড়ে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ৪ সদস্য নিহত 

বাড়ছে তিস্তার পানি, বন্যার আশঙ্কা

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬

ধারাবাহিক বৃষ্টি আর উজানের ঢলে হুহু করে বাড়ছে তিস্তা নদীর পানি। 

অব্যাহতভাবে পানি বাড়ার কারণে তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে পানি বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। যা বর্তমানে ১৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী।

নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চর এলাকাগুলোতে অবিরাম নদীর পানি ঢুকছে। এতে অনেক নিম্নাঞ্চল ও চর এলাকার জমি পানিতে প্লাবিত হয়েছে। 

রংপুর অঞ্চলের ৫ জেলা লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, রংপুর ও গাইবান্ধায় তিস্তাপাড়ে বন্যার আশঙ্কা করছেন নদীপাড়ের মানুষ ও পানি উন্নয়ন বোর্ড। তিস্তার পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে রয়েছে, তবে এমন অবস্থা চলমান থাকলে আগামীকাল রোববার সকালের মধ্যে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীরা। এতে নদীর দুই তীর উপচে চরাঞ্চলের আবাদি জমি তলিয়ে যাওয়ার আশংকায় দিশাহারা হয়ে পড়েছেন চরের কৃষকরা।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, আজ শনিবার সকাল ৯ টায় লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপচেলার দোয়ানী তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে নদীর পানি রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ২ মিটার। এ পয়েন্টে পানির বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার। গতকাল শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল ৯ টায় এ পয়েন্টে পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছিল ৫১ দশমিক ৬৪ মিটার। 

পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, গজলডোবা ব্যারেজের ২০টি গেট ভারত খুলে দেয়ায় তিস্তার পানি বিপদ সীমার কাছাকাছি চলে এসেছে। এতে চরের অনেক কৃষকের আবাদি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার বাসস’কে বলেন, বৃষ্টি ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে তিস্তার পানি হুহু করে বাড়ছে। গেল ২৪ ঘন্টায় তিস্তার পানি ৩৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। শনিবার সকাল ৯টা থেকে পানি বিপৎসীমার মাত্র ১৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যেকোন সময় পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে তিস্তাপাড়ে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে। ‘যেহেতু উজান থেকে পাহাড়ি ঢলের পানি আসছে তাই তিস্তার পানি বাড়তেই থাকবে। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।

হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী এলাকার কৃষক শামসুল হক বলেন, শনিবার ভোরে তিস্তার পানি তাদের এলাকায় ঢুকে পড়েছে। পানি আর একটু বাড়লে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে। যেভাবে নদীর পানি বাড়ছে তাতে যেকোন সময় বন্যা হতে পারে।

কালীগঞ্জ উপজেলার চর শৌলমারী এলাকার কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, তাদের চরটি ইতোমধ্যে নদীর পানিতে ডুবে গেছে। তারা এখনো বাড়িতে অবস্থান করছেন, তবে পানি আরেকটু বাড়লে তাদেরকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হবে। গেল কয়েকদিন বৃষ্টি না হলেও প্রত্যেক রাতেই বৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া উজান থেকে পাহাড়ি ঢলের পানি হুহু করে আসছে।

মহিপুর তিস্তার চর এলাকার কৃষক মকবুল হোসেন বলেন, উজান থেকে পাহাড়ি ঢলের পানি আসার গতি দেখে মনে হচ্ছে এবার তিস্তাপাড়ে বড় ধরনের বন্যা দেখা দিতে পারে। আমন ধানের চারার তৈরিকৃত বীজতলাগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে।

চর ইসলির কৃষক আমজাদ আলী বলেন, তার আবাদকৃত দেড় বিঘা জমির বাদাম তলিয়ে গেছে। পানি স্থায়ী হলে বড় লোকসান গুনতে হবে।

চর রাজপুরের কৃষক সুলাইমান আলী বলেন, চরে বিভিন্ন শাকসবজি আবাদ করা হয়েছে, কিন্তু হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পেয়ে সেগুলো তলিয়ে যাওয়ায় এখন বিপাকে পড়ে গেছি।

রংপুর বিভাগীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবিব বাসস’কে বলেন, নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি ও নদীপাড়ে ভাঙন পরিস্থিতি পযর্বেক্ষণ করা হচ্ছে। ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার, ধরলা, গঙ্গাধর, জিনজিরাম ও ঘাঘট নদীপাড়ে আপাতত বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি না হলেও তিস্তাপাড়ে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun