গাজীপুরের কোনাবাড়ী হরিণাচলা এলাকায় ১২ বছরের এক বাক্প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক অটোচালকের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তকে আটকে রেখে পুলিশে সোপর্দ করেছে। এদিকে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা এবং স্থানীয় যুবকদের মারধর করার অভিযোগে শফিকুল ইসলাম নামের এক বাড়ির মালিককে গণধোলাই দিয়েছে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, অভিযুক্তের নাম কুরবান আলী। তিনি পেশায় একজন অটোচালক এবং হরিণাচলা এলাকার শফিকুল ইসলামের বাড়ির ভাড়াটিয়া। আজ দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে তিনি ওই বাক্প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা তাৎক্ষণিকভাবে কুরবান আলীকে হাতেনাতে আটক করে।
এলাকাবাসী জানায়, ঘটনাটি জানার পর বাড়ির মালিক শফিকুল ইসলাম বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জোর চেষ্টা চালান। তিনি অভিযুক্ত কুরবান আলীকে থানায় সোপর্দ করতে বাধা দেন। স্থানীয় যুব সমাজের কয়েকজন যুবক থানায় খবর দিতে চাইলে শফিকুল ইসলাম তাদের ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং তাদের গায়ে হাত তোলেন। এই খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শত শত মানুষ ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ জনতা বাড়ির মালিক শফিকুলের ওপর হামলা চালায়। গণধোলাইয়ের মুখে তিনি একপর্যায়ে সেখান থেকে পালিয়ে যান।
পরবর্তীতে বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে কোনাবাড়ী মেট্রো থানার (উপ-পরিদর্শক) এসআই হামিদসহ পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং অভিযুক্ত কুরবান আলীকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় উত্তেজিত জনতা পুলিশের গাড়ি ধাওয়া করে এবং পুলিশ ভ্যান থেকে অভিযুক্তকে নামিয়ে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে অভিযুক্তকে থানায় নিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
কোনাবাড়ী মেট্রো থানা পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত অটোচালককে আটক করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। এলাকার পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।