গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে কাতারকে ৩-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মত নক আউট পর্ব নিশ্চিত করেছে বসনিয়া-হার্জেগোভিনা।
তিন ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ-বি’র তৃতীয় স্থান অর্জণ করে বসনিয়া। এই ম্যাচ শেষ হবার ঘন্টাখানেক পর ফিফা ঘোষনা দেয়া গ্রুপের সেরা তৃতীয় দল হিসেবে বসনিয়া যাচ্ছে পরের রাউন্ডে। আর এতেই গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় ঘটেছে ২০২২ বিশ্বকাপ আয়োজক কাতারের। যদিও এবারের আসরে অন্তত ১ পয়েন্ট নিয়ে তারা বাড়ি ফিরছে, যা স্বাগতিক হিসেবে অর্জণ করতে পারেনি।
বসনিয়ার বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় ১৮ বছর বয়সী কেরিম আলাবেগোভিচের গোলের সাথে কাতারের গোলরক্ষক মাহমুদ আবুনাডার গোলে প্রথমার্ধেই লিড নেয় ইউরোপীয়ার দেশটি। প্রথমার্ধের শেষভাগে দলের সবচেয়ে বেশী আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা ৩৫ বছর বয়সী হাসান আল-হাইডোসের গোলে কাতার ম্যাচে ফিরে আসার ইঙ্গিত দেয়। কিন্ত ৮০ মিনিটে আরমিন মাহমিচের গোলে বসনিয়ার জয় নিশ্চিত হয়। এনিয়ে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে গোল করলেন মাহমিচ।
ম্যাচের শুরু থেকেই বসনিয়া একের পর এক আক্রমন চালিয়েছে। প্রথম চার মিনিটের মধ্যে তারা দুইবার আবুনাডাকে পরীক্ষায় ফেলে। প্রথমে আবুডানা আরমেনিড ডেমিরোভিচের শক্তিশালী শট রুখে দেন। এরপর ইভান সুনিচের শট কোনমতে কর্ণারের সাহায্যে রক্ষা করেন। টিনএজ লেফট উইঙ্গার আলাবেগোভিচ দুজন খেলোয়াড়কে কাটিয়ে ২৯ মিনিটে যে শটটি নিয়েছিলেন তা আটকানোর সাধ্য ছিলনা আবুডানার।
৪০ বছর বয়সী অভিজ্ঞ এডিন জেকো কাল জাতীয় দলের হয়ে ১৫০তম ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন। পাঁচ মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুন করার পিছনে জেকোর অবদান ছিল। তার ডিফ্লেকটেড শটে আবুডানার গায়ে লেগে বল জড়ায়। কয়েক মিনিট পর জেকোর শট আবুডানাকে পরাস্ত করলেও পোস্টে লেগে ফেরত আসে।
তীব্র গরমে বসনিয়ার শুরুতে থাকা প্রাণচাঞ্চল্য কিছুটা কমে যায়। আর তখনই কাতারি ফুটবলের অভিজ্ঞ তারকা হাসান আল-হাইডোস কোচ জুলেন লোপেতেগুইয়ের আস্থার প্রতিদান দেন। ৪২তম মিনিটে তিনি বল জালে জড়িয়ে কাতারকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে পেদ্রো মিগুয়েলের শট দূরের পোস্টে লেগে ফিরে আসে, নইলে ব্যবধান আরও বাড়তে পারতো।
৫৫তম মিনিটে চোট পেয়ে হতাশ মনে মাঠ ছাড়েন আল-হাইডোস।
এরপর দীর্ঘ সময় বড় কোনো সুযোগ তৈরি হয়নি। ম্যাচজুড়ে জমে থাকা বসনিয়ার হতাশা শেষ পর্যন্ত উচ্ছ্বাসে রূপ নেয় ৮০ মিনিটে মাহমিচের গোলে।