রুবেন ভারগাস ও জোহন মানজাম্বির গোলে সহ-আয়োজক কানাডাকে ২-১ ব্যবধানে পরাজিত কওের গ্রুপ-বি’র শীর্ষ দল হিসেবে শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে সুইজারল্যান্ড। গ্রুপের দ্বিতীয় দল হিসেবে কানাডাও নক আউট পর্বে উঠে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে।
ভ্যাঙ্কুভারে কাল গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে নামার আগে দুই দলই জানতো এই ম্যাচে জয়ী হতে পারলে গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত হবে। তবে অন্তত ড্র করতে পারলেও দুই দলই পরের রাউন্ডে যেত।
দ্বিতীয়ার্ধে ভারগাস ও মানজাম্বির গোলে সুইসরা তিন ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষস্থান দখল করে। কানাডার হয়ে এক গোল পরিশোধ করেছেন প্রমিস ডেবিড। সুইজারল্যান্ডের থেকে তিন পয়েন্ট পিছিয়ে গ্রুপের দ্বিতীয় স্থান পায় কানাডা। এনিয়ে বিশ্বকাপে প্রথমবারের মত নক আউট পবে উঠলো কানাডা।
স্বাগতিক কোচ জেসি মার্শ বলেন, ‘আমি জানি আমার দলের সাহস আছে। আমরা এমন একটি গ্রুপে ছিলাম যেখানে যেকোনও সময় যেকোনও কিছু হতে পারতো।’
২০২৬ বিশ্বকাপের আগে উত্তর আমেরিকান দল কানাডা কখনই বিশ্ব মঞ্চে কোন ম্যাচে জিততে পারেনি। দ্বিতীয় স্থান পাওয়ায় রোববার লস এ্যাঞ্জলসে গ্রুপ-এ রানার্স-আপ দল দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে কানাডা।
অন্যদিকে সুইজারল্যান্ডের প্রতিপক্ষ গ্রুপ পর্বে সেরা তৃতীয় স্থানে থাকা একটি দল, যা এখনও নির্ধারিত হয়নি।
ম্যাচ শুরুর আগে কানাডিয়ান মিডফিল্ডার ইসমায়েল কোনে হুইলচেয়ারে মাঠে প্রবেশ করেন। গত সপ্তাহে কাতারের বিপক্ষে দলের ৬-০ গোলের জয়ের ম্যাচটিতে তার পায়ে আঘাত লাগে। কোনেকে দেখে স্টেডিয়াম ভর্তি দর্শক দাঁড়িয়ে তাকে অভিবাদন জানান।
ম্যাচের ১০ মিনিটে সুইজারল্যান্ডকে এগিয়ে দেবার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন ব্রিল এম্বোলো। কিন্তু তার শট সরাসরি গোলরক্ষকের হাতে জমা পড়ে। ফিরতি বলে মানজাম্বি শট নিলেও তা এক ডিফেন্ডারের বুকে গিয়ে লাগে। বিরতির আগে কানাডা দুটি ভালো সুযোগ তৈরি করেছিল, কিন্তু সুইস গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেল দুইবারই দুর্দান্তভাবে রক্ষা করেন।
দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হওয়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই রুবেন ভারগাস সুইজারল্যান্ডকে এগিয়ে দিলে ম্যাচে প্রাণ ফিরে আসে। ডান প্রান্ত দিয়ে এগিয়ে যাওয়া মানজাম্বির কাছে একটি সহজ পাস পৌঁছে যায়। তার ক্রস সবাইকে ফাঁকি দিয়ে ২৭ বছর বয়সী ভারগাসের কাছে পৌঁছায়। প্রথম সুযোগেই দারুনভাবে বল নিয়ন্ত্রণ করে ম্যাক্সিম ক্রেপোর নাগালের বাইরে জোরালো শটে জালে পাঠান।
এরপর ৫৭তম মিনিটে ২০ বছর বয়সী মানজাম্বি নিজের অসাধারণ পারফরম্যান্সে আরও মাত্রা যোগ করেন। এম্বোলোর দারুন এ্যাসিস্টে দুর্বল গোলকিপিংয়ের সুবিধা নিয়ে ডান পায়ের শটে টুর্নামেন্টে নিজের তৃতীয় গোলটি করেন তিনি।
কানাডার হয়ে আগের ম্যাচে হ্যাটট্রিক করা জোনাথন ডেভিড দ্বিতীয় হাইড্রেশন বিরতির আগে টার্গেটে একটি শট নিয়েছিলেন। তবে নিকো এলভেডি ঝাঁপিয়ে পড়ে বলের পথ রোধ করেন।
তবে তিন মিনিটের সেই বিরতির পরপরই বদলি হিসেবে মাঠে নামা প্রমিস ডেভিড কানাডাকে নতুন আশা এনে দেন। ন্যাথান সালিবার দারুণ এক পাসে পা ছুঁইয়ে তিনি বল জালে পাঠান।