1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
প্রেক্ষাপট: আধুনিকায়ন হচ্ছে ইস্টার্ন রিফাইনারি, বছরে তেল শোধন হবে ৪৫ লাখ টন অরাজকতা উসকে দিচ্ছে কি না গুপ্তরা, প্রশ্ন তুললেন প্রধানমন্ত্রী অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম চলবে: সীতাকুণ্ডে জামায়াত আমির যুক্তরাষ্ট্রে লেবার ডের ছুটিতে পেট্রোলের দাম রেকর্ড ছাড়ানোর আশঙ্কা বিদ্যুৎমন্ত্রীর বাড়িতে বিদ্যুৎ থাকলেও সাধারণ মানুষ বঞ্চিত: শফিকুর রহমান দাবি না মানলে এক দফার আন্দোলনে সরকার পতন হবে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সামরিক আধুনিকায়নে চীনের দিকে ঝুঁকছে বাংলাদেশ: জে-টেন সিই যুদ্ধবিমান ও কৌশলগত সক্ষমতা বিশ্লেষণ জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে ট্রাম্পের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠকের সম্ভাবনা ঝিনাইদহের শৈলকূপায় সারের দাবিতে কৃষকদের সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ প্রেক্ষাপট: জাতিসংঘ অধিবেশনের আগে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সম্ভাবনা নেই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

তিস্তা পাড়ে হাজারো মানুষের আলোর মিছিল

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬

তিস্তা নদীর দুই তীরের ৫ জেলার ৮টি স্থানে হাজারো মানুষ গণসমাবেশ ও আলোর মিছিল করেছে ‘তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও’ সংগ্রাম পরিষদ। প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করায় তাঁকে অভিনন্দন জানিয়ে এবং প্রকল্পটি দ্রুত একনেক অনুমোদন ও বাস্তবায়নে রোডম্যাপ ঘোষণার দাবিতে তারা এই মিছিল করে।

গতকাল বুধবার সন্ধ্যার পর পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে রংপুর, গাইবান্ধা, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের তিস্তা তীরবর্তী বিভিন্ন স্থানে একযোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাবাজারের আলীবাবা থিম পার্ক-সংলগ্ন তিস্তা পাড়ে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংগ্রাম পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম হক্কানী বাসস’কে বলেন, চীন সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে ঘোষণা দিয়েছেন-২০২৬-২০২৭ অর্থবছরেই এই সরকার যে কোনো মূল্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে। আমরা এই ঘোষণাকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই। উত্তরাঞ্চলের মানুষের কাছে তিস্তা মহাপরিকল্পনা শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়, এটি নদীভাঙন রোধ, তিস্তার উভয় তীর সংরক্ষণ, নদী খনন, শাখা-উপনদী পুনরুজ্জীবন, ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণ, কৃষি উৎপাদন ও সেচ সম্প্রসারণ, নৌযোগাযোগ, পরিবেশ সংরক্ষণ, শিল্পায়ন এবং আঞ্চলিক বৈষম্য দূর করার একটি সমন্বিত জাতীয় উদ্যোগ। আমরা বিশ্বাস করি জাতীয় সংসদে দেয়া ঘোষণার দ্রুত বাস্তবায়নই হবে তিস্তা পাড়ের মানুষের প্রতি সরকারের অঙ্গীকারের বাস্তব প্রতিফলন।
তিনি আরও বলেন, তিস্তা পাড়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে শুধু প্রতিশ্রুতি শুনেছে। এখন তারা নতুন আশ্বাস নয়, দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে চায়। তাই তিস্তা অববাহিকার বিভিন্ন স্থানে হাজার হাজার মানুষ আলোর মিছিলে অংশ নিয়ে দ্রুত তিস্তা মহাপরিকল্পনার একনেক অনুমোদন এবং পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের মতো একটি সুনির্দিষ্ট ও সময়বদ্ধ বাস্তবায়ন রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন।

সমাবেশ শেষে হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে মশাল প্রজ্বালনের মাধ্যমে আলোর মিছিল বের করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য আব্দুর রাজ্জাক এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আলমগীর কবির, বাবুল আক্তার, আশিকুর রহমান, রবিউল ইসলাল, স্থানীয় সংগঠক আব্দুস ছাত্তার, জিয়াউর কামরুজ্জামান ও রফিকুল ইসলাম। সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন ইঞ্জিনিয়ার শেখ রেজওয়ান।

সংগঠনটির নেতারা বলেন, ‘পদ্মা হলে তিস্তা নয় কেন’? স্লোগানে পুরো জুন মাসজুড়ে নিজস্ব অর্থায়নে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে সভা-সমাবেশ, লিফলেট বিতরণ, হাটসভা, উঠান বৈঠক, বিক্ষোভ ও মশাল প্রজ্বালন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। আমরা আশায় ছিলাম মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণাসহ একনেকে বরাদ্দ দেওয়া হবে। কিন্তু তা না হলেও চীন সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাদের আশায় আলোর দ্বীপ জ্বালিয়েছেন।

একই দাবিতে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার আউলিয়ার বাজার পয়েন্টে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য আব্দুন নুর দুলাল ও মাহমুদ আলম এবং কেন্দ্রীয় নেতা আশরাফুল ইসলাম, পারভিন আক্তার, ওমর ফারুক ও মোনায়েম সরকার।

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার শৈলমারী ও বানপাড়া তিস্তাপাড়ের কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শফিয়ার রহমান, স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য ছাদেকুল ইসলাম, শৈলমারী ইউপি চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান জামান এবং কেন্দ্রীয় নেতা গোলাম পাশা এলিচ ও জাহাঙ্গীর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বুড়িরহাট তিস্তা তীরে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য বখতিয়ার হোসেন শিশির, কেন্দ্রীয় নেতা সাজু সরকার, মোশাররফ হোসেন, মওলানা জাহিদুল ইসলাম। উলিপুর উপজেলার হোকোডাঙা তিস্তা পাড়ে উপস্থিত ছিলেন স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য মশিউর রহমান ও কেন্দ্রীয় নেতা মোশাররফ হোসেন।

ছবি : বাসস

‘তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও’ সংগ্রাম পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শফিয়ার রহমান বলেন, জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া প্রতিশ্রুতি তিস্তা অববাহিকার মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। এখন সেই আশাকে বাস্তবে রূপ দিতে দ্রুত একনেক অনুমোদন, অর্থায়ন নিশ্চিতকরণ এবং বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করা সময়ের দাবি।

এসব কর্মসূচি থেকে আগামীদিনে রংপুর অঞ্চলের রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় কর্মসূচি ঘোষণার পাশাপাশি ৬ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun