পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে রাজধানী ইসলামাবাদ অভিমুখে লংমার্চ শুরু করেছে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। খাইবার পখতুনখোয়া প্রদেশের লাক্কি মারওয়াত থেকে মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদির নেতৃত্বে এই যাত্রা শুরু হয়। এর আগে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে পিটিআইয়ের সমঝোতা আলোচনার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় দলটি রাজপথে নামার সিদ্ধান্ত নেয়। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, লংমার্চের বহরটি রোববার দিবাগত রাতে কারাক এলাকায় অবস্থান নিয়েছে এবং ৮ অক্টোবর বৃহস্পতিবার নাগাদ এটি খায়রাবাদ পৌঁছাবে। কিন্তু তাদের মধ্যে আলোচনায় কোনো সমঝোতা হয়নি। এরপর পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
লংমার্চের এই কর্মসূচির প্রেক্ষাপটে ফেডারেল রাজধানী ইসলামাবাদ ও পাঞ্জাবের বিভিন্ন এলাকায় রেঞ্জার্স মোতায়েনের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। সূত্রমতে, নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী ১৫ই অক্টোবর পর্যন্ত এই মোতায়েন বহাল থাকবে, যা আগে ৫ই অক্টোবর পর্যন্ত নির্ধারিত ছিল। পিটিআইয়ের মহাসচিব সালমান আকরাম রাজা দাবি করেছেন, কেন্দ্রীয় সরকার খাইবার পখতুনখোয়ার সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপের দায় প্রাদেশিক সরকারের ওপর একতরফাভাবে চাপানোর চেষ্টা করছে, যা আলোচনার ব্যর্থতার প্রধান কারণ। তার ভাষ্যমতে, যেকোনো সন্ত্রাসবিরোধী উদ্যোগ কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকারের সমঝোতা এবং সব রাজনৈতিক দলের মতামতের ভিত্তিতে হওয়া উচিত। এক্সে দেয়া এক বিবৃতিতে রাজা বলেন, পিটিআই-টিটিএপি দল তাদের নীতিগত অবস্থানে অটল ছিল। পাশাপাশি প্রাদেশিক পরিষদে প্রতিনিধিত্বকারী সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে পরামর্শ এবং তাদের সম্মতির ভিত্তিতে এসব পদক্ষেপের কাঠামো তৈরি করতে হবে।
এদিকে, পিটিআইয়ের এই লংমার্চ নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। তিনি অভিযোগ করেন, পিটিআই নেতারা আদালতের নির্দেশনা লঙ্ঘন করে সরকারি সম্পদ ও সশস্ত্র বহর ব্যবহার করছেন। তিনি বলেন, কর্মীরা রাস্তায় অস্ত্র বহন করছেন এবং নেতারা বুলেটপ্রুফ গাড়িতে আত্মগোপন করে আছেন। খাজা আসিফের মতে, আদালতের আদেশ যেখানে মানা হচ্ছে না, সেখানে সরকারের সঙ্গে কোনো চুক্তির নিশ্চয়তা থাকার কোনো সুযোগ নেই। এছাড়া ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যানের বিষয়ে পিটিআইয়ের অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বাহিনী সদস্যদের ওপর হামলায় পিটিআই কোনো নিন্দা বা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে দলটির নেতারা বোমা প্রতিরোধী ও বুলেটপ্রুফ সরকারি গাড়িতে ‘ইঁদুরের মতো লুকিয়ে’ রয়েছেন। আসিফ প্রশ্ন তোলেন, আদালতের নির্দেশই যদি লঙ্ঘন করা হয়, তাহলে পিটিআই ও সরকারের মধ্যে কোনো চুক্তি হলে সেটি মেনে চলার নিশ্চয়তা কোথায়। আফগানিস্তান থেকে হামলা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে খাজা আসিফ বলেন, সামরিক, আধাসামরিক বাহিনী কিংবা পুলিশ সদস্য নিহত হওয়ার মতো হামলার বিরুদ্ধে পিটিআই কোনো প্রতিরোধ গড়ে তোলেনি বা এসব হামলার নিন্দাও জানায়নি।
অন্যদিকে, খাইবার পখতুনখোয়ার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কাশ্মীর ও গিলগিট-বালতিস্তান বিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী আমির মুকাম। তিনি স্বীকার করেন যে, প্রদেশের জনগণ চরম দুর্ভোগের শিকার। তবে তিনি প্রাদেশিক সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, জনসাধারণের সমস্যা সমাধানে স্থানীয় প্রশাসন যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে না। সব মিলিয়ে, কেন্দ্রীয় সরকার ও পিটিআইয়ের মধ্যকার এই বিরোধ রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে। আমির মুকাম বলেন, খাইবার পখতুনখোয়ার জনগণ যে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন, আমরা তা বুঝতে পারছি।