কারামুক্তির অপেক্ষায় থাকা সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালকে ঢাকার আদাবর থানার গার্মেন্টস কর্মী রুবেল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। রোববার (৪ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক এই আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মিজানুর রহমান। এই প্রটোকলের মধ্যে থেকে তার এই ঘটনায় সরাসরি অংশগ্রহণ করা মোটেই সম্ভব নয়।
এর আগে, গত ২৫ জুন রাজধানীর মগবাজার এলাকা থেকে হাবিবুল আউয়ালকে গ্রেপ্তার করে ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। জনগণের ‘ভোট ছাড়াই’ নির্বাচন আয়োজন ও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে বিএনপির দায়ের করা ওই মামলায় পরদিন তাকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল। এবার নতুন করে রুবেল হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ টিপু সুলতান। গত ২৯ সেপ্টেম্বর ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত আসামি হাবিবুল আউয়ালের উপস্থিতিতে শুনানির জন্য ৪ অক্টোবর দিন নির্ধারণ করেছিলেন। ২০২৫ সালের ২৫ জুন রাজধানীর মগবাজার এলাকা থেকে হাবিবুল আউয়ালকে গ্রেপ্তার করে ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। কোথাও বের হতে হলে তাকে সর্বদাই পুলিশ ঘিরে রাখত। শেখ হাসিনার অবৈধ ভোটকে বৈধতা দিয়েছেন এই আসামি। শেখ হাসিনা দেশ থেকে পালানোর আগে তার নেতা–কর্মীদের সঙ্গে আলাদা আলাদা করে মিটিংয়ে বসেছিলেন। কীভাবে এই আন্দোলনকে দমানো যায়, তার নির্দেশনাও দিয়েছেন এই আসামি।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালনকালে হাবিবুল আউয়াল ফ্যাসিস্ট সরকারের সহায়তাকারী হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন। তিনিসহ অন্যান্য নির্বাচন কমিশনাররা স্বাধীন ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বরত থাকা সত্ত্বেও মামলার এজাহারনামীয় গুরুত্বপূর্ণ আসামিদের সঙ্গে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন বলে অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের বিতর্কিত ‘ডামি’ নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে বিগত সরকারকে পুনরায় ক্ষমতায় বসাতে তার প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল এবং এর ফলে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন কলুষিত হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত ও মূল রহস্য উদঘাটনের স্বার্থে তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন বলে আদালতকে জানানো হয়।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বলেন, বাংলাদেশে নির্বাচন কেন্দ্রিক লুটপাটের সঙ্গে এই আসামি জড়িত। তাই মামলার স্বার্থে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো জরুরি। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী তাপস চন্দ্র দাস এই আবেদনের বিরোধিতা করেন। তিনি যুক্তি দেন, হাবিবুল আউয়াল তার দীর্ঘ কর্মজীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর পর থেকে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।
উল্লেখ্য, মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালে রুবেলসহ কয়েকশ ছাত্র-জনতা আদাবর থানার রিংরোড এলাকায় প্রতিবাদী মিছিল বের করেন। সে সময় পুলিশসহ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা মিছিলে গুলি চালান। এতে হতাহতের ঘটনার প্রেক্ষিতে রুবেলের বাবা রফিকুল ইসলাম ২২ আগস্ট আদাবর থানায় মামলাটি দায়ের করেন।