1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ১২:১৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
গাজীপুরে হোটেলকর্মীকে মারধর করে টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ নারীরা স্বাবলম্বী হলে সমাজ ও দেশ এগিয়ে যাবে : ডিসি ফরিদা জীবননগর সীমান্ত দিয়ে ৩ জনকে পুশইনের চেষ্টা, রুখে দিল বিজিবি জীবননগরে ট্রান্সফরমার চুরি মামলার রহস্য উদঘাটন; আন্তঃজেলা চোরচক্রের ০৬(ছয়) সদস্য গ্রেফতার|| বিজ্ঞ আদালতে দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান ‎কাশিমপুর ভূমি অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাময়িক বরখাস্ত করলো গাজীপুর জেলা প্রশাসক ‎অপহরন ও চাঁদাবাজি করে নগদ টাকা হাতিয়ে নেওয়ায় নাহিদ পারভেজকে গ্রেফতার হিজলগাড়ী প্রেসক্লাবের নতুন কমিটি গঠন:রাশেদুল ইসলাম সহ- সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হিজলগাড়ী প্রেসক্লাবের নতুন কমিটি গঠন: সভাপতি আরিফ হাসান, সাধারণ সম্পাদক সেলিম রেজা আমতলীতে অজ্ঞাত এক যুবকের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ‎কাশিমপুরে দুই লাখ দশ হাজার টাকা জরিমানা করলো এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট

গাজীপুরে হোটেলকর্মীকে মারধর করে টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬

কাশিমপুরে ১০/১২ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ; মাথায় গুরুতর জখম, ৪৩ হাজার ৩০০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার দাবি।
গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুর থানাধীন এলাকায় হোটেলকর্মীর কাছ থেকে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনার প্রতিবাদ করায় এক ব্যক্তিকে বাড়িতে ঢুকে মারধর, হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত এবং নগদ ৪৩ হাজার ৩০০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনের বিরুদ্ধে কাশিমপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী মো. হাবিবুর রহমান (৩০)।


অভিযোগকারী মো. হাবিবুর রহমান দিনাজপুর জেলার খানসামা থানার গোয়ালডিহি গ্রামের মো. আফসার আলীর ছেলে। তিনি বর্তমানে গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুর থানাধীন লতিফপুর বুড়া মার্কেট এলাকায় বসবাস করেন। একই এলাকায় একটি হোটেলে ব্যবসা করার পাশাপাশি শম্পা নামের এক নারীর মালিকানাধীন বাড়ির ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে হাবিবুর রহমান দাবি করেন, গত ৭ আগস্ট রাত আনুমানিক ৮টা ১৫ মিনিটের দিকে তার হোটেলের কর্মচারী মো. ফারুক (২৬) পারিশ্রমিকের এক হাজার টাকা নিয়ে বাসায় ফিরছিলেন। পথে কাশিমপুর থানাধীন সারদাগঞ্জ হাজী মার্কেট এলাকার মেঘা সুয়েটার ফ্যাক্টরির পেছনে পৌঁছালে কয়েকজন তাকে পথরোধ করেন। এ সময় তার কাছে থাকা নগদ এক হাজার টাকা জোরপূর্বক নিয়ে নেওয়া হয় এবং এ বিষয়ে কাউকে জানালে তাকে মারধরের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
পরে ফারুক ঘটনাটি তার মালিকপক্ষের হাবিবুর রহমানকে জানান। অভিযোগে বলা হয়, পরবর্তীতে হাবিবুর রহমান অভিযুক্তদের একজনের কাছে ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে বিভিন্ন ধরনের কথাবার্তা বললেও একপর্যায়ে তার কর্মচারীর কাছ থেকে এক হাজার টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন বলে দাবি করেন হাবিবুর।
এরপর ওই ব্যক্তির কাছ থেকে আরেক অভিযুক্তের মোবাইল নম্বর নিয়ে হাবিবুর রহমান ফোনে যোগাযোগ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ফোনে ওই অভিযুক্তও তার কর্মচারীর কাছ থেকে এক হাজার টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন এবং টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। যার ফোন কল রেকর্ড অভিযোগ কারীর কাছে সংরক্ষিত আছে।
তবে পরে টাকা ফেরত না দেওয়ায় গত ১০ আগস্ট দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে হাবিবুর রহমান অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ফোন করেন। তখন দ্রুত টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলা হলেও অভিযোগ অনুযায়ী, একই দিন বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে পরিস্থিতি ভিন্ন রূপ নেয়।
হাবিবুর রহমানের অভিযোগ, ওই সময় নাম উল্লেখ করা অভিযুক্তরা এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জন ব্যক্তি দলবদ্ধ হয়ে তার বর্তমান বাসায় অনধিকার প্রবেশ করেন। তারা তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। গালিগালাজের কারণ জানতে চাইলে অভিযুক্তরা দাবি করেন, হাবিবুর রহমান নাকি তাদের একজনকে খারাপ ভাষায় গালিগালাজ করেছেন।
এরপর অভিযুক্তরা হাতে থাকা লাঠিশোটা দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম হয় বলে দাবি করেন তিনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে অভিযুক্তদের একজন হাতে থাকা হাতুড়ি দিয়ে হাবিবুর রহমানের মাথা লক্ষ্য করে আঘাত করেন। আঘাতটি তার মাথায় লাগায় মাথা ফেটে রক্তাক্ত জখম হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
হাবিবুর রহমানের দাবি, মারধরের একপর্যায়ে অভিযুক্তদের একজন তার প্যান্টের পকেটে থাকা নগদ ৪৩ হাজার ৩০০ টাকা জোরপূর্বক নিয়ে নেন। পরে তার ডাক-চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা সেখান থেকে চলে যান।
অভিযোগকারীর আরও দাবি, চলে যাওয়ার সময় অভিযুক্তরা তাকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখান এবং সুযোগ পেলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করে ফেলার হুমকি দেন।
পরে আহত হাবিবুর রহমানকে তার স্ত্রী মোছা. মুক্তা পারভীন চিকিৎসার জন্য কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ভর্তি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। হাসপাতালের রেজিস্ট্রেশন নম্বর ৫৩০৮/১৬ এবং ভর্তি তারিখ ১০ আগস্ট ২০২৬ বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে।
হাবিবুর রহমান জানান, ঘটনার পর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। 
এ ঘটনায় মো. পারভেজ (২৩), মো. অভি (২০) ও মাহতাব (২০)-এর নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন।
তবে অভিযোগে উল্লিখিত ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। অভিযোগের সত্যতা, টাকা ছিনিয়ে নেওয়া, হামলার ধরন এবং ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত—এসব বিষয় তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এ ধরনের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হতে পারে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সুশীল সমাজের লোকজন জানিয়েছেন, প্রকাশ্য দিবালোকে এভাবে একটি মানুষকে তার বাসায় ঢুকে মারধর করা অনেক বড় অন্যায়। এসব ঘটনার যদি দোষীদের আইনের আওতায় না আনা হয় তবে এ সমাজ ধ্বংসের পথে চলে যাবে। এ বিষয়ে সুষ্ঠ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun