রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী এবং দুই সন্তানকে হারানোর ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে জুলাই স্মৃতি চত্বর থেকে দলটির জেলা ও মহানগর শাখার উদ্যোগে একটি মশাল মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি নগরীর প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ শেষে প্রেসক্লাব চত্বরে গিয়ে শেষ হয় এবং সেখানে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তারা এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়সারা তদন্তের তীব্র সমালোচনা করেন এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উন্মোচনের দাবি জানান।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন জেলা আহ্বায়ক আল মামুন, যুগ্ম আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান, মহানগর সদস্য সচিব আব্দুল মালেক, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শান্তি কাদেরী, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব আলমগীর নয়ন, যুগ্ম সদস্য সচিব মহসিন বকসী, রংপুর সদর আহ্বায়ক কৃষ্ণ চন্দ্র বর্মণ স্বাধীন, বদরগঞ্জ উপজেলা আহ্বায়ক রুহুল আমিন, সদস্য সচিব মুহিবুল্লাহ আল মোমেন সেতু, গংগাচড়া উপজেলা যুগ্ম সদস্য সচিব সামিউল ইসলাম শুভ, জাতীয় যুব শক্তির সদস্য সচিব মুরশিদ আলম, জেলা জাতীয় ছাত্র শক্তির আহ্বায়ক মারুফ আহমেদ, সদস্য সচিব তানজিম আলম তাসিন, জেলা যুব শক্তির সদস্য সচিব মোর্শেদ, সদর উপজেলা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক স্বাধীন চন্দ্র দাস এবং মুখ্য সংগঠক সিমান্ত হোসেনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
জেলা আহ্বায়ক আল মামুন অভিযোগ করে বলেন, শান্ত রংপুরকে পরিকল্পিতভাবে অশান্ত করার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, গত কয়েক দিনে হত্যা, মাদক ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। একজন শিক্ষক যেখানে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, সেখানে আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। রংপুর একটি শান্তিপূর্ণ নগরী হিসেবে পরিচিত, যেখানে সব ধর্মের মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন রয়েছে। এই সম্প্রীতি নষ্ট করার পেছনে কোনো গভীর ষড়যন্ত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখার জন্য তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি থানায় ‘ওপেন অভিযোগ বক্স’ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন আল মামুন। এই বক্সে সাধারণ মানুষ মাদক ব্যবসায়ী, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তথ্য নির্ভয়ে জমা দিতে পারবেন। এছাড়া হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান বক্তারা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তাঁরা বলেন, সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই কেবল নিহত পরিবারের সদস্যদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব।