শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) তাহসিনা বেগমের পক্ষে আয়োজিত একটি প্রতিবাদ সমাবেশের সংবাদ সংগ্রহের সময় তিন সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে ‘শরীয়তপুরের সাধারণ জনগণ’-এর ব্যানারে শরীয়তপুর বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এই সমাবেশের আয়োজন করেছিলেন। আয়োজকদের অভিযোগ, গত রোববার বিক্ষোভের নামে সাংবাদিকেরা জেলা প্রশাসককে হেয় করেছেন।
আহত সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন শরীয়তপুর সংবাদদাতা জাহিদ হাসান, নিউজ২৪ ও জাগো নিউজের জেলা প্রতিনিধি বিধান মজুমদার এবং দৈনিক মানবকণ্ঠের জেলা প্রতিনিধি মোহাম্মদ বরকত মোল্লা। তারা জানান, সমাবেশের ছবি ও ভিডিও ধারণের সময় ১০ থেকে ১২ জন ব্যক্তি তাদের ওপর চড়াও হন। এ সময় তাদের মারধর করা হয় এবং আহত অবস্থায় তারা শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সাংবাদিক জাহিদ হাসান জানান, ভিডিও ধারণের সময় জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান মোল্লা তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেন এবং আইডি কার্ড ছিঁড়ে ফেলেন। এরপর তাকে চড় ও ঘুষি মারা হয়। সাংবাদিক বিধান মজুমদার জানান, হামলার মুখে তিনি দৌড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন। অপর সাংবাদিক বরকত মোল্লা অভিযোগ করেন, আরিফুজ্জামান মোল্লার নেতৃত্বে একদল বিক্ষোভকারী তাকে মারধর করলে তার বাঁ হাতে আঘাত লাগে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি নেতা আরিফুজ্জামান মোল্লা সাংবাদিকদের মারধরের কথা অস্বীকার করে বলেন, তাদের সঙ্গে কেবল ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। তবে সাংবাদিকদের মারধরের হুমকি দিয়ে তিনি আরও বলেন, অনেকে তার লিস্টে আছে এবং সন্ধ্যার মধ্যে আরও খবর পাওয়া যাবে। তিনি সরাসরি বলেন, ‘তোমরা লেখবা, আর আমরা পিটাইমু।’
জেলা বিএনপির সহসভাপতি শাহ মোহাম্মদ আবদুস সালাম দাবি করেন, সাংবাদিকেরা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করেছেন এবং তারা ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে কাজ করছেন। তবে সমাবেশে কোনো সাংবাদিক মারধরের শিকার হয়েছেন কি না, তা তিনি জানেন না বলে জানান। এদিকে, জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি আবুল হোসেন সরদার এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন এবং দোষীদের শনাক্ত করে বিচারের দাবি তুলেছেন।
ঘটনার বিষয়ে মন্তব্যের জন্য জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। এছাড়া জেলা পুলিশ সুপার রওনক জাহানকেও একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। উল্লেখ্য, শনিবার রাতে জেলা প্রশাসন শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ফেলার প্রতিবাদে রোববার সাংবাদিকেরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছিলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নাগরিকত্ব প্রশ্নে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের প্রতিক্রিয়া কী বার্তা দেয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে: জাতিসংঘ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মক্কা চুক্তিতে অংশগ্রহণ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ভারসাম্যকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে: রয়টার্স। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: লুকিয়ে বিদেশ গিয়ে গোপনে ফিরেছেন যে বিশ্বনেতারা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থল থেকে দৌড়ে নিরাপদ জায়গায় চলে যাই।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একসঙ্গে ওদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শুধু এখন না, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিতে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ইন শা আল্লাহ, আল্লাহর রহমতে সন্ধ্যার মধ্যে আরও খবর পেয়ে যাবা।’।