আদালতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে মামলার রায় লেখা বেআইনি না হলেও এটি অনৈতিক বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। শনিবার রাজধানীর এশিয়াটিক সোসাইটি বাংলাদেশ মিলনায়তনে দেশের প্রথম এআই গভর্নেন্স সামার স্কুলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধান বিচারপতি বলেন, রায় লেখার ক্ষেত্রে তিনটি বিষয়ের সমন্বয় প্রয়োজন—ফ্যাক্ট, আইন এবং বিবেক বা নৈতিকতা। এআই ব্যবহার করে বিবেক নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, মানুষ যদি তার চিন্তাশক্তি হারিয়ে ফেলে, তবে সে তার স্বকীয়তা হারাবে। তাই জাজমেন্ট লিখতে হবে নিজের বুদ্ধি, বিবেক ও আইন ব্যবহার করে।
এআই ব্যবহারের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করে তিনি বিদেশি একটি মামলার উদাহরণ টানেন। সেখানে এআই-এর দেওয়া তথ্য যাচাই না করে রায় দেওয়ায় বিচারপতিরা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছিলেন, কারণ ওই মামলার কোনো অস্তিত্বই ছিল না। তাই তথ্য যাচাইয়ের গুরুত্বের ওপর তিনি জোর দেন।
প্রধান বিচারপতি বলেন, এআই-এর ইতিবাচক দিকগুলোকে স্বাগত জানাতে হবে এবং এর সাথে অভ্যস্ত হতে হবে। তবে এটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে আইনি কাঠামো থাকা জরুরি। তিনি স্পষ্ট করেন, মানুষের মৌলিক অধিকার খর্ব করে বা সংবিধানের পরিপন্থী কোনো কাজে এআই ব্যবহার করা যাবে না। রাইট টু লাইফ, রাইট টু ওয়ার্ক ও রাইট টু প্রপার্টির মতো মৌলিক অধিকারগুলো সুরক্ষায় এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মানুষ যখন চিন্তাশক্তি হারিয়ে ফেলবে, আমি মনে করি তখন সে অনেক ছোট হয়ে যাবে।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নেতিবাচক দিক বোঝাতে বিদেশি একটি মামলার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, এআই ব্যবহার করে উপস্থাপন করা কেস রেফারেন্স আমলে নিয়ে বিচারপতি পক্ষে রায় দিলেন এবং এই রায়টা তিন-চারটা কোর্ট অনুসরণ করল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিছু দিন পরে গবেষণা করে দেখা গেল, এই ধরনের কোনো মামলার অস্তিত্ব নেই। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিচারপতিরা খুব বিব্রত বোধ করলেন, কিন্তু রায় তো দেওয়া হয়ে গেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, ‘ভুলে গেলে চলবে না দেশ বা সমাজ, রাষ্ট্র বা সংবিধান কার জন্য—মানুষের জন্য।’।