হলিউড অভিনেত্রী কেট বেকিনসেল রুপালি পর্দায় বহুবার কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। তবে বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা যে কতটা যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে, তা নিয়ে এবার খোলাখুলি কথা বলেছেন ৫৩ বছর বয়সী এই তারকা। পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার (পিটিএসডি), শোক এবং প্রিয়জন হারানোর গভীর ক্ষত নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, কিছু মানুষের জীবন সত্যিই নরকের মতো হয়ে উঠতে পারে।
ইনস্টাগ্রামে গত বুধবার প্রকাশিত একটি ভিডিওতে বেকিনসেল জানান, গত আড়াই বছরে তিনি তাঁর মা অভিনেত্রী জুডি লো এবং সৎবাবা রয় ব্যাটার্সবি—দুজনকেই হারিয়েছেন। তাঁর সৎবাবা রয় ব্যাটার্সবি ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে মারা যান। এরপর ২০২৫ সালের জুলাই মাসে চতুর্থ পর্যায়ের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান মা জুডি লো। এই ব্যক্তিগত শোক ও মানসিক আঘাতের মধ্য দিয়েই তিনি পিটিএসডিতে আক্রান্তদের প্রতি আরও সহানুভূতিশীল হওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন।
‘আন্ডারওয়ার্ল্ড’ তারকা জানান, যাঁরা জীবনে ভয়াবহ সহিংসতা বা বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছেন, তাঁরা সেই স্মৃতি থেকে সহজে বেরিয়ে আসতে পারেন না। অনেক মানুষই নিজেদের কষ্ট এমনভাবে আড়াল করেন যে বাইরে থেকে তাঁদের স্বাভাবিক মনে হয়। পিটিএসডির ভয়াবহতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বেকিনসেল বলেন, আক্রান্ত অনেক মানুষ এক ঘণ্টার বেশি ঘুমাতেও পারেন না, কারণ ঘুমালেই তাঁদের তাড়া করে দুঃস্বপ্ন। কোনো শব্দ, গন্ধ বা অনুভূতিও হঠাৎ তাঁদের সেই ভয়াবহ স্মৃতির অতীতে ফিরিয়ে নিতে পারে।
মানসিক এই লড়াই বাইরে থেকে দেখা যায় না বলেই মানুষের প্রতি আরও দয়ালু হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। অভিনেত্রীর মতে, কারও বাহ্যিক জীবন যতই বিলাসবহুল মনে হোক না কেন, তাঁর ভেতরে কী ধরনের যুদ্ধ চলছে, তা অন্যের পক্ষে বোঝা সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, কাউকে বারবার ‘খুব শক্ত মানুষ’ বলে আখ্যায়িত করার একটি বিপদ আছে। কারণ, এই শক্তির ধারণাকে অনেক সময় ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়, যেন ওই মানুষটির আর কারও কোমলতা বা সহানুভূতির প্রয়োজন নেই।
বিশেষ করে যাঁরা নীরবে প্রিয়জনের সেবা করছেন এবং চোখের সামনে তাঁদের ধীরে ধীরে ভেঙে পড়তে দেখছেন, তাঁদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেন বেকিনসেল। তিনি বলেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রশিক্ষণ ছাড়াই অনেককে এই কঠিন পরিস্থিতি সামলাতে হয়, যা তাঁদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে। সবশেষে বেকিনসেলের আবেদন, মানুষের জীবনে এমন একজন হওয়া উচিত, যার কাছে অন্য কেউ নিরাপদ বোধ করেন। সামান্য সহানুভূতি বা পাশে দাঁড়ানোও কারও জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলে তিনি মনে করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আরেকটি ভিডিওতে জাতীয় শোক সচেতনতা দিবস উপলক্ষে কথা বলেন বেকিনসেল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাঁর মতে, এমন মানুষদের দুর্বল হিসেবে নয়, বরং ‘নায়ক’ হিসেবেই দেখা উচিত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আর সেখানেই তৈরি হয় আরেক সমস্যা—মানুষ তখন তাঁদের প্রতি সহানুভূতি দেখানোর প্রয়োজনই অনুভব করেন না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: হঠাৎ আলোচনায় ইন্দোনেশিয়ান অভিনেত্রী, কে এই আগনেজ মো। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কেট বেকিনসেলের ব্যক্তিজীবনও গত কয়েক বছর ছিল গভীর শোকে ভরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রিয় দুই মানুষকে হারানোর পর নিজের মানসিক সংগ্রামের কথা বলতে গিয়ে এবার তাই অন্যদের প্রতিও সহমর্মিতার বার্তা দিলেন এই হলিউড তারকা।