সিরাজগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হাজতখানা থেকে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে আব্দুল মমিন ওরফে ‘বড় গ্যদা’ (৪০) নামের এক হাজতি আসামি পালিয়ে গেছেন। তিনি সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার কোবদাসপাড়া মহল্লার সফর শেখের ছেলে। হাজতখানার দ্বিতীয় তলা থেকে নিচে লাফ দিয়ে তিনি দ্রুত দৌড়ে পালিয়ে যান। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, ওই সময় পুলিশ সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার আগেই তিনি আদালতের বাউন্ডারি দেওয়াল টপকে আত্মগোপন করেন। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করছে, তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার বিষয়ে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেয়নি। তবে আদালতের অতিরিক্ত পিপি ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীর কর্নেল জানান, সকালে আদালতে আসার পর তিনি জানতে পারেন যে হাজতখানা থেকে এক আসামি লাফ দিয়ে পালিয়ে গেছে। পুলিশ তাকে পুনরায় গ্রেপ্তারের জন্য তৎপরতা চালাচ্ছে। আদালতে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, সকালে জেলা কারাগার থেকে বিভিন্ন মামলার আসামিদের আদালতে আনা হয়েছিল। সেই সুযোগেই মমিন এই পলায়নের ঘটনা ঘটায়।
পলাতক আব্দুল মমিনের বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাই ও হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তার ভাইরা কিসমত আলী জানান, মমিন এলাকায় নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত এবং তার অত্যাচারে স্থানীয়রা অতিষ্ঠ। ২০-২২ দিন আগে কিসমত আলীর বাড়িতে চুরি করতে গিয়ে স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়ার পর তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছিল। সেই চুরির মামলাতেই তিনি জেল হাজতে ছিলেন। এছাড়া ২০২৩ সালে কোবদাসপাড়া মহল্লায় ইউসুফ নামে এক যুবককে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি তিনি। কিছুদিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পেয়ে তিনি পুনরায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা স্বপন জানান, মমিন সম্পর্কে তার বোন জামাই হন। কয়েকদিন আগে তার বাড়িতেও চুরির ঘটনা ঘটিয়েছেন মমিন। তার ক্রমাগত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে স্থানীয়রা বাধ্য হয়েই তাকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। বর্তমানে পুলিশ তার বাড়িতে গিয়েও খোঁজখবর নিয়েছে, তবে তার অবস্থান সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই হত্যা মামলায় আব্দুল মমিন এজাহার ভুক্ত আসামি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরে বাধ্য হয়ে সবাই মিলে আমরা তাকে পুলিশে ধরিয়ে দেই। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রাতে ঘরের বেড়া কেটে ভিতরে ঢুকে পড়ে।