সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সব ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার আকস্মিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে আলজেরিয়া। আবুধাবির ধারাবাহিক ‘উসকানিমূলক ও বৈরী’ আচরণের অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার আলজেরিয়া সরকার এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। তবে ঠিক কোন নির্দিষ্ট ঘটনার জেরে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে খোলাসা করেনি আলজেরিয়া।
আলজেরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটিতে নিযুক্ত আমিরাতের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশ কার্যকর করার জন্য ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্যমতে, আমিরাতের কর্মকাণ্ড এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যা আর গ্রহণযোগ্য নয় এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক রক্ষার সব পথ তারা বন্ধ করে দিয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ভ্রাতৃপ্রতিম আলজেরিয়ার জনগণের প্রতি তাদের শ্রদ্ধা অটুট রয়েছে। দুই দেশের জনগণের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধন এবং আমিরাতে বসবাসরত আলজেরীয় সম্প্রদায় ও পর্যটকদের অবদানের কথা উল্লেখ করে আবুধাবি আশা প্রকাশ করেছে যে, আলজেরিয়ার এই সিদ্ধান্ত সাময়িক হবে। তারা দুই দেশের অভিন্ন স্বার্থ রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার পাশাপাশি আলজেরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আরব আমিরাতের নিবন্ধিত সব সামরিক ও বেসামরিক উড়োজাহাজের জন্য নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়া হবে। তবে চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত আলজিয়ার্সে যাতায়াতকারী আমিরাতের বাণিজ্যিক ফ্লাইটগুলো এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে। এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আলজেরিয়া ২০১৩ সালের মে মাসে আবুধাবিতে সই হওয়া বিমান চলাচল চুক্তি বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করেছিল।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। আলজেরিয়ার সংবাদমাধ্যমে বারবার আমিরাতের সমালোচনা করা হয়েছে এবং আবুধাবি আঞ্চলিক বিভেদ উসকে দিচ্ছে বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিম সাহারা ইস্যু ও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের বিষয়ে দুই দেশের অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীত। ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আমিরাত ও মরক্কো ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে, যার ঘোর বিরোধী আলজেরিয়া। এছাড়া আমিরাত পশ্চিম সাহারাকে মরক্কোর অংশ হিসেবে সমর্থন দেয় এবং সেখানে তাদের একটি কনস্যুলেটও রয়েছে, অন্যদিকে আলজেরিয়া পলিসারিও ফ্রন্টকে সমর্থন করে আসছে।
আফ্রিকান সাহেল অঞ্চলেও দুই দেশের স্বার্থের সংঘাত তৈরি হয়েছে। আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট আবদেলমাদজিদ তেবউন গত বছর সরাসরি নাম উল্লেখ না করলেও উপসাগরীয় অঞ্চলের একটি দেশের বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ তুলেছিলেন, যা মূলত আমিরাতের দিকেই ইঙ্গিত ছিল। তিনি সৌদি আরব, কুয়েত, ওমান ও কাতারের সঙ্গে সম্পর্ককে বন্ধুত্বপূর্ণ বললেও আমিরাতের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি স্পষ্ট করেছিলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার সব জায়গা তারা নষ্ট করে ফেলেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পশ্চিম সাহারা নিয়ে কয়েক দশক ধরে চলমান উত্তেজনায়ও দেশ দুটির অবস্থান সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অন্যদিকে একের পর এক সামরিক অভ্যুত্থানের পর আলজেরিয়ার সঙ্গে দেশটির দক্ষিণের কয়েকটি প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।