কুড়িগ্রামে আমন ধান ও আগাম শীতকালীন সবজি চাষের জন্য কৃষি অফিসের সুপারিশকৃত সারের অর্ধেকও বরাদ্দ পাচ্ছেন না কৃষকরা। সরকারিভাবে সারের ঘাটতি নেই বলে দাবি করা হলেও, মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র ভিন্ন। সারের তীব্র সংকট ও অব্যবস্থাপনার কারণে কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ডিলারদের গুদামে হামলা-লুটপাট এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার মতো অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কর্তৃপক্ষ ইউনিয়ন পর্যায়ের পাশাপাশি ওয়ার্ড পর্যায়ে সার বিতরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, নতুন এই ব্যবস্থায়ও পরিস্থিতির তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। লক্ষ্মীর মোড় গ্রামের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের অনুমোদিত ডিলার মতিয়ার রহমানের কাছে মাত্র ৪০ বস্তা সার পাওয়া গিয়েছিল, যার মধ্যে ইউরিয়া ছিল না বললেই চলে। সেখানে ৩০ বস্তা ডিএপি ও ১০ বস্তা টিএসপি মজুদ ছিল।
সারের দুষ্প্রাপ্যতার কারণে বর্তমানে দুই বা তিনজনের জন্য এক বস্তা সার বরাদ্দের নিয়ম করা হয়েছে। এতে প্রায় ৩০০ কৃষক সার নিতে এসে ১০০ থেকে ১২০ জন ছাড়া বাকিদের খালি হাতে ফিরতে হয়েছে। ডাক্তারপাড়ার কৃষক রাশেদা বেগম জানান, সাত বিঘা জমিতে ধান ও এক বিঘা বেগুনের আবাদের জন্য তার ইউরিয়া ও ডিএপি প্রয়োজন হলেও, তাকে কেবল টিএসপি দেওয়া হয়েছে। একই অভিজ্ঞতার কথা জানান মো. নুরুজ্জামান ও মো. নুরুদ্দিনের মতো অনেক কৃষক, যাদের ধান ও সবজি চাষের জন্য জরুরি সার প্রয়োজন হলেও তা পাননি।
খুচরা বিক্রেতা মতিয়ার রহমান জানান, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ খুবই সামান্য। অন্যদিকে, ইউনিয়ন পর্যায়ের ডিলার মেসার্স জনার্দন চন্দ্র সাহার দোকানেও একই চিত্র দেখা গেছে। ডিলার প্রতিনিধি আবুল হাশেম জানান, ২৭২ বস্তা ডিএপি, ১৭৮ বস্তা এমওপি, ৬০ বস্তা ইউরিয়া ও ৯৫ বস্তা টিএসপি পেয়েছিলেন তারা, যা ৯ জন ওয়ার্ড ডিলারের মধ্যে বণ্টন করা হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, ইউরিয়া সরবরাহ অপ্রতুল হওয়ায় তা আটকে রাখা হয়েছে। ইউনিয়নের কৃষকদের বেগুনের খেতে অন্তত ১,২০০ বস্তা ইউরিয়া ও ৫০০ বস্তা ডিএপি প্রয়োজন হলেও চাহিদার তুলনায় সরবরাহ খুবই নগণ্য।
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি খরিপ-২ মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ২১ হাজার ১৭৫ হেক্টর জমিতে আমন ধান এবং ২ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে। আমন ধানের জন্য ২৩ হাজার ৬২৯ টন, বেগুনের জন্য ৯০ টন এবং ফুলকপির জন্য ৬৫ টন ইউরিয়া প্রয়োজন। কিন্তু জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বরাদ্দ মিলেছে মাত্র ১২ হাজার ৪৮৩ টন ইউরিয়া। একইভাবে টিএসপি ও ডিএপি সারের চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ অর্ধেকেরও কম।
সারের অভাবে কৃষকরা বাধ্য হয়ে ডিএপি সার বেশি ব্যবহার করছেন কিংবা জৈব সার ও ম্যাগনেসিয়ামের ওপর নির্ভর করছেন। তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সঠিক পরামর্শ বা দিকনির্দেশনা না পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে কৃষকদের। মাঠপর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতির কারণ হিসেবে লোকবল সংকটকে দায়ী করেছে কৃষি অধিদপ্তর।
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, আমন মৌসুমে জমি উর্বর থাকায় অনেক ক্ষেত্রে বাড়তি ইউরিয়া সার প্রয়োজন হয় না। তবে ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় অতিরিক্ত আগাম জাতের বেগুন চাষের কারণে তারা অতিরিক্ত ৬০০ টন সার চেয়ে আবেদন করেছেন। সীমিত লোকবলের কারণে মাঠপর্যায়ের প্রত্যেক কৃষকের কাছে সরাসরি পরামর্শ পৌঁছানো তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে বলেও তিনি স্বীকার করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ফিরছিলেন মাইক্রোবাসে, কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় নিহত ৪। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সৌদি আরবে হুতি বিদ্রোহীদের হামলা, সংকট বাড়ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ: ফাইনালের আসল সমীকরণ কার কেমন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পাহাড়কে ঘর বানিয়েছেন সমতলের যে সাঁওতালরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অনেক কৃষককেই খালি হাতেই বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: উপজেলার লক্ষ্মীর মোড় গ্রামে গিয়ে এমন চিত্রই দেখা যায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কৃষকেরা জানান, প্রথমে প্রতি দুইজনের জন্য এক বস্তা সার দেওয়ার নিয়ম করা হলেও পরে তা কমিয়ে তিনজনের জন্য এক বস্তা করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ডাক্তারপাড়ার বাসিন্দা ৩৫ বছর বয়সী রাশেদা বেগম বলেন, ‘আমি সাত বিঘা জমিতে ধান ও এক বিঘা জমিতে বেগুনের আবাদ করেছি।