নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সাত শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় আগামীকাল মঙ্গলবার ঘোষণা করবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল রায়ের এই দিন ধার্য করেন। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম ও ফারুক আহাম্মদসহ সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।
মামলায় অভিযুক্ত অন্য ছয় নেতা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। বর্তমানে তারা সবাই পলাতক রয়েছেন। গত ১৭ আগস্ট যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর আদালত মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন। এর আগে গত ২ আগস্ট মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়, যেখানে তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৯ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে।
চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনাল সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার প্রক্রিয়ার সূচনা করেছিলেন। এর আগে গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউশনের আনা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন। প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, জুলাই-আগস্টের জনআন্দোলন দমনে আসামিরা সমন্বিতভাবে উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান, সহিংসতা পরিকল্পনা এবং নেতাকর্মীদের প্রতিরোধ গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এছাড়া, দেশের বিভিন্ন স্থানে সশস্ত্র আক্রমণ, কঠোর দমন-পীড়ন এবং গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে তাদের সক্রিয় ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের এসব কর্মকাণ্ডের ফলে ব্যাপক সহিংসতা, হত্যা ও হত্যাচেষ্টার মতো ঘটনা ঘটে, যা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে ট্রাইব্যুনালে শাস্তিযোগ্য গণ্য হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নেতাকর্মীদের রাজপথে নামিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি একাধিক বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনা করেন তারা।