পাবনার ঈশ্বরদীতে সাবেক পৌর বিএনপি সাধারণ সম্পাদক ও দল থেকে বহিস্কৃত নেতা জাকারিয়া পিন্টু এবং তার ভাইদের বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ, অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও জমি দখলসহ একাধিক গুরুতর মামলা থাকা সত্ত্বেও তারা এখনো গ্রেফতার না হওয়ায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, একের পর এক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটলেও রহস্যজনক কারণে প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে। অন্যদিকে কোনো মামলা না থাকা সত্ত্বেও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) হাতে বিএনপি সক্রিয় কর্মীরা পায়েল হোসেন রিন্টুকে আটক হওয়াই আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন বিএনপির কর্মীরা। অন্যদিকে, দল থেকে বহিষ্কৃত নেতা জাকারিয়া পিন্টুসহ তার চার ভাইয়ের বিরুদ্ধে হত্যা ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা থাকলেও তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাম্প্রতিক গত ০২ সেপ্টেম্বর মেহেদী হাসান আকিব নামের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। নিহতের বাবার দাবি জাকারিয়া পিন্টুর ভাই মেহেদী হাসান ও তার বাহিনী তার ছেলেকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। মেহেদী বাহিনীর আতঙ্কে সুষ্ঠু বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন নিহতের পরিবার।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জাকারিয়া পিন্টু এবং তার ভাইদের বিরুদ্ধে ঈশ্বরদী থানায় ডজনেরও বেশি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে নতুন করে একাধিক হত্যা, হত্যাচেষ্টা, চাঁদাবাজি, মারপিট এবং জমি দখলের মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, অতীতেও তাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও অস্ত্র আইনের মতো গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনকে কাজে লাগিয়ে পিন্টু ও তার বাহিনী ঈশ্বরদীর বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে জিম্মি করে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শুরু করেছে। তাদের ভয়ে অনেকেই মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। যারা প্রতিবাদ করার চেষ্টা করছেন, তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঈশ্বরদী বাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, “তাদের নামে এত মামলা, অথচ তারা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। প্রশাসন সব জেনেও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। আমরা চরম নিরাপত্তারহীনতায় ভুগছি।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে জাকারিয়া পিন্টুর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।
এই বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “আসামি যেই হোক না কেন, অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। জাকারিয়া পিন্টু ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর তদন্ত চলছে। আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
তবে প্রশাসনের এই চেনা আশ্বাসে আশ্বস্ত হতে পারছেন না ঈশ্বরদীবাসী। ভুক্তভোগীদের দাবি, অনতিবিলম্বে পিন্টু ও তার ভাইদের গ্রেফতার করে ঈশ্বরদীতে শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হোক।