ইরান যুদ্ধের জেরে সৃষ্ট বড় ধরনের বিপর্যয় কাটিয়ে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে কাতার এয়ারওয়েজ। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন রুটের ফ্লাইটে যাত্রী আসন পূরণের হার ৮০ শতাংশের গণ্ডি ছাড়িয়েছে। ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরোতে আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার বার্ষিক সাধারণ সভায় অংশ নিয়ে কাতার এয়ারওয়েজের শীর্ষ নির্বাহী কর্মকর্তা হামাদ আলী আল-খাতের এ তথ্য জানান।
আল-খাতের জানান, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের হামলার পর আকাশসীমা বন্ধ রাখতে বাধ্য হওয়ার ঘটনাটি ছিল আধুনিক ইতিহাসে এয়ারলাইনটির জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। ওই সময় মার্চের শুরু পর্যন্ত চারটি ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছিল। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রী চাহিদা প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। সাক্ষাৎকার দেওয়ার মাত্র পাঁচ দিন আগেই আসন পূরণের এই মাইলফলক স্পর্শ করেছে এয়ারলাইনটি। তিনি উল্লেখ করেন, অস্ট্রেলিয়া থেকে ইউরোপগামী দীর্ঘপথের ফ্লাইটগুলোর চাহিদা বাড়ছে। পাশাপাশি ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও আফ্রিকা রুটেও যাত্রী পরিবহনের চিত্র বেশ ইতিবাচক।
জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়ে তিনি বলেন, প্রায় ১৬৬টি গন্তব্যের প্রতিটি স্টেশন থেকে জ্বালানি পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়েছে। এমনকি হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকলেও ঝুঁকি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। যদিও জ্বালানির দামের অস্থিরতা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে, যার প্রভাব সামাল দিতে প্রয়োজনে টিকিটের দাম সমন্বয় করা হতে পারে। বর্তমানে অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্যেও প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এয়ারলাইনটির বহর আধুনিকায়নে জোর দেওয়া হচ্ছে। বোয়িংয়ের সঙ্গে করা চুক্তির আওতায় ২১০টি ওয়াইডবডি উড়োজাহাজের অর্ডার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া আগামী অক্টোবর নাগাদ এয়ারবাসের এ৩২১ লং রেঞ্জ উড়োজাহাজগুলো বহরে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে, যা দীর্ঘপথের উড্ডয়নে বাড়তি সক্ষমতা যোগ করবে। যাত্রী অভিজ্ঞতা উন্নত করতে অধিকাংশ উড়োজাহাজে ইতোমধ্যে স্টারলিংক ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া হয়েছে এবং দ্রুতই নতুন প্রজন্মের ‘কিউ স্যুট’ কেবিন চালু করা হবে। এসব কৌশলগত উদ্যোগ যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন আল-খাতের। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যদিও এখনো যুদ্ধের আগের পর্যায়ের পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরে যেতে পারেনি এয়ারলাইনসটি, তবে যাত্রী চাহিদা প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এসব উড়োজাহাজ সরু দেহের বিমানের দক্ষতার সঙ্গে দীর্ঘপথে উড্ডয়নের সক্ষমতা দেবে।