বাংলাদেশ ও ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোর মধ্যে নিয়মিত দ্বিপাক্ষিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। ২৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে নিজ নিজ দেশের পক্ষে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর এবং ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোর পররাষ্ট্র ও ক্যারিকম বিষয়ক মন্ত্রী এস এম সোবার্স। এতে প্রাথমিক পর্যায়ে জ্বালানি সহযোগিতাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে বাংলাদেশ।
সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর জানান, এই নতুন প্রক্রিয়া চালুর ফলে উভয় দেশ নিয়মিতভাবে তাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পর্যালোচনা করার সুযোগ পাবে। বিশেষ করে ২০২৭-২০২৮ মেয়াদে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোর দায়িত্ব পালনের সময় এ বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা কামনা করা হয়। এর পাশাপাশি বাণিজ্যিক, অর্থনৈতিক, বৈজ্ঞানিক, কারিগরি ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময়ের পথ সুগম হবে। জ্বালানি খাতকে স্বল্পমেয়াদি সহযোগিতার অন্যতম সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী দুই দেশের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে দ্রুত একটি কারিগরি বৈঠক আয়োজনে ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোর মন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ অব্যাহত রাখতে ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোর সমর্থন প্রত্যাশা করেন। এছাড়া ক্রিকেটকে দুই দেশের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন হিসেবে উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী যুব ও নারী ক্রিকেট, কোচিং, ক্রীড়া বিজ্ঞান এবং ক্রীড়া প্রশাসনে পারস্পরিক জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের প্রস্তাব দেন। এই সমঝোতা স্মারকের ফলে দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও সুসংগঠিত ও অর্থবহ হবে বলে উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করে।
এ সময় মানবিক সহায়তার তহবিল কমে যাওয়ার প্রসঙ্গটিও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মানবিক সহায়তার তহবিল উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ তার মানবিক অবস্থান বজায় রেখে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে আসা ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে এখনো আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। এ সময় তিনি রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।