মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা নিরসনে এবং যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে যুক্তরাষ্ট্রকে সাত দিনের একটি নতুন পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছে ইরান। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সম্মেলনের সাইডলাইনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এই পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াশিংটন এই প্রস্তাব গ্রহণ করলেই ইরান তা বাস্তবায়নে কাজ শুরু করতে প্রস্তুত। বাড়তি খরচ-মন্দা বাজারের চাপে পোলট্রি খামারিরা। হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, মোট ১০৮৪। ফিফা আসিয়ান কাপ / ছন্নছাড়া পারফরম্যান্সে মালয়েশিয়ার কাছে হেরে শুরু বাংলাদেশের। আজ শুক্রবার সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে পরিকল্পনার বিস্তারিত জানানো হয়।
আব্বাস আরাঘচি জানান, গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটি অকার্যকর হয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে নতুন এই প্রস্তাব আনা হয়েছে। এটি পূর্বের সমঝোতার আদলে তৈরি হলেও দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কিছুটা পরিমার্জিত। তিনি আরও বলেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো হয়েছে। যশোরে বাঁওড় দখল নিয়ে বিরোধ, শটগানের গুলিতে আহত ৫।
প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, সাত দিনের এই সময়সীমার মধ্যে লেবাননসহ সব ধরনের সংঘাত ও শত্রুতা বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি ইরান তার জব্দকৃত প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ছাড়ের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের তেল রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং দেশটির ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের শর্তও দেওয়া হয়েছে এই পরিকল্পনায়। যুদ্ধ বন্ধে ইরানের ৭ দিনের পরিকল্পনায় যা আছে। এ সময়ের মধ্যে ইরানের জব্দ করা প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়তে হবে বলেও উল্লেখ রয়েছে।
সপ্তম দিন শেষে ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর পরপরই দেশটির পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ আলোচনায় বসার প্রস্তাব রয়েছে। আব্বাস আরাঘচি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই কোনো একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে পারলে তা উভয় পক্ষের জন্যই সুবিধাজনক হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে উভয় দেশের মধ্যে ইতিবাচক ও গঠনমূলক আলোচনা চলছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র কোনো বিষয়ে তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্তে আসতে আগ্রহী নয়।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান বিষয়ক পরিচালক আলী ভায়েজ এই উদ্যোগকে বেশ বুদ্ধিদীপ্ত হিসেবে দেখছেন। তার মতে, চলমান যুদ্ধ বন্ধ এবং নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম কমানোর সুযোগ ট্রাম্পের মতো নেতার জন্য আকর্ষণীয় হতে পারে। এছাড়া খুব দ্রুত পরমাণু বিষয়ে আলোচনায় বসার বিষয়টিও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গ্রহণযোগ্য বলে প্রতীয়মান হতে পারে।
উল্লেখ্য, গত জুনের সমঝোতা ব্যর্থ হওয়ার পর নতুন করে এই সাত দিনের পরিকল্পনায় ইরান বেশ কয়েকটি সুনির্দিষ্ট শর্তের ওপর জোর দিয়েছে। তবে চূড়ান্তভাবে সব কিছু নির্ভর করছে ওয়াশিংটনের সম্মতির ওপর।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি স্পষ্ট করেছেন যে, এই কর্মপরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করা হলে তা দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে নতুন আলোচনার পথ প্রশস্ত করতে পারে। ইরান বর্তমানে তার পররাষ্ট্রনীতির এই নতুন কৌশল নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।