গত ৬ সেপ্টেম্বর জুরিখ বিমানবন্দরে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটের দায়িত্ব গ্রহণের ঠিক আগমুহূর্তে সংশ্লিষ্ট ফার্স্ট অফিসারের বাধ্যতামূলক অ্যালকোহল পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় তিনি ব্যর্থ হওয়ায় তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। নিরাপত্তার খাতিরে তাঁকে আর ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং পরবর্তীতে সাধারণ যাত্রী হিসেবে ভারতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এয়ার ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষ তাঁকে সাসপেনশন বা সাময়িক বরখাস্তের আদেশ দিয়েছে।
পরীক্ষায় পজিটিভ ফল আসার পর ওই পাইলটকে বিমান থেকে নামিয়ে দেওয়া হয় এবং বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে ফ্লাইটটি পরিচালনা করা হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে চূড়ান্ত মেডিক্যাল রিপোর্ট এবং তদন্তের ফলাফল এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্তের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পাইলটের সাসপেনশনের সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। এর আগে ফুকেত থেকে দিল্লিগামী আরেকটি ফ্লাইটের ক্ষেত্রেও এয়ার ইন্ডিয়ার এক পাইলটের মাদক পরীক্ষায় মারিজুয়ানার উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছিল, যা নিয়ে বেশ আলোচনা তৈরি হয়। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই জুরিখে এই নতুন ঘটনাটি সামনে এল।
এয়ার ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষ কঠোরভাবে জানিয়েছে, নিরাপত্তা প্রোটোকল, নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিধিবিধান এবং প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত নীতি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে তারা কোনো ছাড় দেয় না। কোনো ধরনের নিয়মভঙ্গের অভিযোগ প্রমাণিত হলে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নীতিমালা ও কোম্পানির অভ্যন্তরীণ নিয়ম অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। উড়ান কর্মীদের মধ্যে দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহি এবং নিয়ম মেনে চলার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে নিয়মিত সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করা হয় বলে সংস্থাটি দাবি করেছে। এছাড়া পাইলট ও অন্যান্য উড়ান কর্মীদের জন্য সাইকোঅ্যাক্টিভ পদার্থের পরীক্ষা সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক।
উল্লেখ্য যে, বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার খাতিরে পাইলটদের শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উড়োজাহাজ উড্ডয়নের আগে প্রতিটি কর্মীকে নির্ধারিত স্বাস্থ্য ও মাদক পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হয়। নিয়ম অনুযায়ী কোনো কর্মী পরীক্ষায় ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট নিয়ম ও প্রোটোকল অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। বর্তমানে জুরিখের ওই ঘটনার চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত অভিযোগটি চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হয়নি, তবে তদন্ত চলাকালীন পাইলটকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছে।