যাত্রীসংকট ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনার সীমাবদ্ধতার কারণে ঢাকা-বরিশাল রুটে আপাতত ফ্লাইট বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের। বর্তমানে রাষ্ট্রায়ত্ত এ সংস্থাটি নির্দিষ্ট কিছু দিনে ঢাকা-বরিশাল-ঢাকা রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে, কিন্তু প্রায়ই উড়োজাহাজের ধারণক্ষমতার অর্ধেকেরও কম যাত্রী নিয়ে তাদের চলাচল করতে হয়। যাত্রীস্বল্পতার বাস্তবতায় বেসরকারি সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স কিংবা নভোএয়ারের মতো অপারেটররাও এ রুটে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা থেকে সরে এসেছে।
এ বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সংশ্লিষ্ট বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মাহবুবউদ্দিন আহমেদ জানান, বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ফ্লাইট বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই। তিনি উল্লেখ করেন, রুটের যাত্রীচাহিদা ও বাণিজ্যিক সম্ভাব্যতা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে চাহিদা বাড়লে পুনরায় ফ্লাইট বাড়নোর বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে বর্তমানে অর্ধেকের কম যাত্রী নিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা করা এয়ারলাইন্সের জন্য বাণিজ্যিকভাবে চ্যালেঞ্জিং। তবে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে বরিশাল রুটে পর্যাপ্ত ফ্লাইট না থাকায় চরম ভোগান্তি ও হতাশা প্রকাশ করেছেন দক্ষিণাঞ্চলের ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীরা। তাদের দাবি, বরিশাল বিভাগীয় শহর হিসেবে এর গুরুত্ব বিবেচনায় সপ্তাহের সাত দিনই ফ্লাইটের ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। আকাশপথে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপিত হলে চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন খাতের ব্যাপক প্রসারের পাশাপাশি পুরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা আসবে বলে তারা মনে করছেন। তাদের দাবি, বরিশাল থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াতের জন্য আকাশপথে আরও বেশি সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। এতে দক্ষিণাঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও আরও গতিশীল হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
সাধারণ যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের এই দাবির প্রেক্ষিতে বরিশাল বিভাগীয় স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির নেতারা জেলা প্রশাসকের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। স্মারকলিপিতে নিয়মিত বিমান যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আমলে নিয়ে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সংশ্লিষ্ট বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর আশ্বাস দিয়েছেন। মন্ত্রণালয় পর্যায়ে আলোচনার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়েও জানানো হয়েছে। তবে বিমান কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে যে, শেষ পর্যন্ত ফ্লাইট বাড়ানোর বিষয়টি কেবল যাত্রীচাহিদা ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনার ওপরই নির্ভর করবে।