ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে ভারতে মাদক পাচারের একটি ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করার প্রমাণ মিলছে। গত দুই মাসে এই বিমানবন্দর দিয়ে প্রায় ৩০ কেজি উচ্চমূল্যের মাদক ‘কুশ’ জব্দ করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের সক্রিয়তাকে সামনে নিয়ে এসেছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই ও আগস্ট মাস জুড়ে থাইল্যান্ড থেকে আসা ভারতীয় নাগরিকদের কাছ থেকে এই বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করা হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর বলছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কুশ থাইল্যান্ড থেকে বাংলাদেশ হয়ে ভারতে পাচার করা হচ্ছিল। বাংলাদেশের বিমানবন্দরকে কেন এই রুট হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে এবং স্থানীয়ভাবে কেউ সহযোগিতা করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অভিযানগুলোর ধারাবাহিকতায় গত ২৪ জুলাই এক ভারতীয় যাত্রীর কাছ থেকে ১১ কেজি ৮০০ গ্রাম কুশ উদ্ধার করা হয়। এরপর আগস্ট মাসে একের পর এক বড় বড় চালানের খবর সামনে আসে। ১৮ আগস্ট বিমানবন্দরের তল্লাশিতে চার কেজি ১৮০ গ্রাম কুশ পাওয়া যায়, যে ঘটনায় দুই ভারতীয় নাগরিক তাদের ট্রলি ও পাসপোর্টের কপি ফেলে রেখে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। এরপর ২২ আগস্ট থাই এয়ারওয়েজের ফ্লাইটে আসা এক ভারতীয় যাত্রীর ব্যাগ থেকে তিন কেজি কুশ জব্দ করা হয়। ২৪ আগস্ট একইভাবে ব্যাংকক থেকে আসা দুই ভারতীয় নাগরিককে আটক করা হয়, যাদের ট্রলিতে কাপড়ের নিচে লুকানো ছিল পাঁচ কেজি ৪০ গ্রাম কুশ। তাদের কাছ থেকে ২৪টি ভারতীয় শাড়ি ও তিন লিটার বিদেশি মদও উদ্ধার করে কর্তৃপক্ষ। এর তিন দিন পর, ২৭ আগস্ট আরও পাঁচ কেজি ১২০ গ্রাম কুশসহ দুই ভারতীয় নাগরিককে আটক করা হয়। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের ঢাকা মেট্রো উত্তরের উপপরিচালক রাজিউর রহমান জানান, বাংলাদেশে কুশের ব্যবহার এখনো সেভাবে বিস্তৃত হয়নি। পাচারকারীরা মূলত বাংলাদেশকে রুট হিসেবে ব্যবহার করে এই মাদক ভারতে পাচারের চেষ্টা করছিল। একই এয়ারলাইনস এবং একই ধরনের কৌশল অবলম্বন করায় তদন্তকারীরা একে বড় কোনো আন্তর্জাতিক চক্রের কাজ বলেই সন্দেহ করছেন। সবচেয়ে সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় একই ধরনের রুট ও কৌশলের পুনরাবৃত্তি দেখা গেছে। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে, আটক ব্যক্তিরাই শুধু বাহক, নাকি তাদের পেছনে বড় কোনো আন্তর্জাতিক পাচারচক্র রয়েছে। বিশেষ করে একই দেশ থেকে একই এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে আসা এবং একই কৌশলে মাদক লুকানোর ঘটনায় তদন্তকারীদের কাছে বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
তদন্তের স্বার্থে গ্রেপ্তারকৃতদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে চক্রের বাকি সদস্যদের শনাক্ত করতে দুই দেশের দূতাবাসের সাথে যোগাযোগসহ প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে কোনো সহায়তাকারী এই চক্রের সাথে যুক্ত আছে কি না, তাও গোয়েন্দারা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। পাশাপাশি জড়িতদের ধরতে দুই দেশের দূতাবাসকে চিঠি দেওয়ার কার্যক্রমও চলছে।