ইরানি এয়ারলাইনসের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থেকে ইরাকের কয়েকটি বিমানবন্দরকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে বাগদাদ। মূলত শিক্ষা, চিকিৎসা, মানবিক সহায়তা এবং ধর্মীয় তীর্থযাত্রার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনে আকাশপথের যোগাযোগ সচল রাখতেই ইরাক এই কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে। ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জায়েদির মিডিয়া অফিস থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
এর আগে গত শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ইরানের সঙ্গে ইরাকের চারটি বিমানবন্দর থেকে সকল ধরনের যাত্রীবাহী ফ্লাইট কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র সরকার ইরানি এয়ারলাইনসের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক থাকা বিশ্বের যেকোনো কোম্পানির বিরুদ্ধে নতুন করে বিমান চলাচলসংক্রান্ত বিধিনিষেধ আরোপের ঘোষণা দেওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরানি বিমান সংস্থাগুলোর আন্তর্জাতিক কার্যক্রমের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে, যা আঞ্চলিক বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
ভৌগোলিক ও ধর্মীয় কারণে ইরান ও ইরাকের মধ্যে নিয়মিত বিপুলসংখ্যক মানুষের যাতায়াত রয়েছে। আকাশপথের যোগাযোগ বাধাগ্রস্ত হলে শিক্ষার্থী, রোগী এবং তীর্থযাত্রীদের চরম ভোগান্তির শিকার হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইরাক সরকার মনে করছে, বর্তমান সংকট ও উত্তেজনার অবসানে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে সংলাপ হওয়া জরুরি। প্রধানমন্ত্রীর মিডিয়া অফিসের বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, এমন একটি সমাধানে পৌঁছাতে হবে যা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের যাতায়াতও নিশ্চিত করবে।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সামরিক উত্তেজনার প্রভাব যে পরিস্থিতির ওপর পড়ছে, তা স্পষ্ট। ইরাক বরাবরই সংঘাতের পথ পরিহার করে শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করে আসছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান এই আলোচনায় এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা সমঝোতা হয়েছে কি না, তা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়নি।