1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২১ অপরাহ্ন
শিরোনাম
সংবিধানে মৌলিক পরিবর্তন আনলে গণভোটের বাধ্যবাধকতা ভারতে পালানোর সময় আটক গোদাগাড়ী পৌর আ.লীগ সম্পাদক চুয়াডাঙ্গায় ৩০০ পিস ইয়াবাসহ কুষ্টিয়ার নাজমা আটক বাংলাদেশে আর্জেন্টিনার প্রতিনিধিত্ব করা বিশেষ কিছু: মোহামেডান কোচ ভারেলা ইসলামি সাত দলের ঐক্য: রূপরেখার শর্ত নিয়ে এখনো অমিমাংসিত লুটপাট ও জবরদখল বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বলছে টিআইবি বিমান কার্গো নিরাপত্তা জোরদারের আহ্বান জানাল আইএটিএ দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর নিষিদ্ধ ফসফরাস বোমার ব্যবহার বাংলা কিউআর লেনদেনে প্রণোদনা বাড়ানোর ঘোষণা বাংলাদেশ ব্যাংকের সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরকে ‘মৌলবাদীদের’ কাজ বললেন ময়ূখরঞ্জন

ইসলামি সাত দলের ঐক্য: রূপরেখার শর্ত নিয়ে এখনো অমিমাংসিত

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

কওমি ধারার সাতটি ইসলামি দলের প্রস্তাবিত রাজনৈতিক ঐক্যের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা চললেও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত নিয়ে এখনো ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। জোটের নেতৃত্ব কে দেবেন, কমিটির মেয়াদ শেষে নেতৃত্বের পরিবর্তন প্রক্রিয়া কেমন হবে, এবং কোনো দলের অন্য জোটে থাকা বা ভবিষ্যতে নতুন জোটে যোগদানের ক্ষেত্রে শর্ত কী হবে—এসব বিষয় নিয়ে দলগুলোর মধ্যে মতভিন্নতা রয়ে গেছে। এ কারণেই সাত দলের এই ঐক্য প্রক্রিয়া আপাতত চূড়ান্ত রূপ নিতে পারেনি।

ঐক্য প্রক্রিয়াকে আরও বেগবান করার লক্ষ্য নিয়ে ২৪ সদস্যের একটি লিয়াজোঁ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা সাজিদুর রহমানকে এই লিয়াজোঁ কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই কমিটিতে হেফাজতের আরও দুজন নেতা এবং সাত দলের প্রতিটি থেকে তিনজন করে প্রতিনিধি থাকবেন। দলগুলোকে আগামী দুই দিনের মধ্যে নিজেদের মনোনীত প্রতিনিধিদের নাম হেফাজতের মহাসচিবের কাছে পাঠাতে বলা হয়েছে। এরপর আগামী ২২ অক্টোবর ঢাকায় পরবর্তী বৈঠকে চূড়ান্ত রূপরেখা নিয়ে আলোচনার কথা রয়েছে। এ ছাড়া কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ মাহফুজুল হক ও ঐক্য চূড়ান্ত করতে হেফাজতে ইসলাম গঠিত উপকমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এই উপকমিটিতে রয়েছেন হেফাজতের মহাসচিব সাজিদুর রহমান, চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসার জ্যেষ্ঠ মুফতি আল্লামা জসিম উদ্দিন, হেফাজতের নায়েবে আমির আবদুল হামিদ (মধুপুর পীর) ও সালাহউদ্দিন নানুপুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি বশির উল্লাহ, নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি মাওলানা।

ঐক্য প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া দলগুলো হলো ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, ইসলামী ঐক্যজোট ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি। গত রোববার ফটিকছড়ির আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় আয়োজিত এই বৈঠকে হেফাজতের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী সভাপতিত্ব করেন। সভায় ৭ দলের প্রতিটি থেকে ৫ জন করে মোট ৩৫ জন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের শুরুতেই হেফাজতে ইসলামের গঠিত উপকমিটি খসড়া রূপরেখা উপস্থাপন করে। উপস্থিত দলগুলোকে এই খসড়া পর্যালোচনার জন্য আধা ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়। এরপর প্রতিটি দল আলাদাভাবে নিজেদের মতামত ও আপত্তির বিষয়গুলো উত্থাপন করে। ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান জানান, প্রতিটি দলই তাদের সুচিন্তিত মতামত তুলে ধরেছে। সামগ্রিকভাবে ঐক্য প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের অগ্রগতি হলেও কিছু বিষয়ে আরও পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে, যে কারণেই মূলত লিয়াজোঁ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

হেফাজতের সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি বশির উল্লাহর মতে, সাত দলের ঐক্য প্রক্রিয়া অনেকটাই এগিয়েছে। রূপরেখার খসড়ায় যে বিষয়গুলো বিতর্কিত ছিল, তার মধ্যে অন্যতম হলো ছয় মাস পরপর কমিটির নেতৃত্ব বদলের পদ্ধতি এবং অন্য রাজনৈতিক জোটে সম্পর্কের শর্ত। অধিকাংশ নেতা মনে করছেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক সমঝোতা ও জোটের ধরন সময়ের সাথে পরিবর্তিত হয়, তাই অন্য কোনো দলের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা কতটা বাস্তবসম্মত হবে, তা পুনর্মূল্যায়ন করা দরকার। তবে প্রস্তাবে পরস্পরবিরোধী নানা মত ছিল।

ঐক্য প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করা একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন যে, বৈঠকের আগে খসড়া রূপরেখাটি দলগুলোর হাতে পৌঁছায়নি, যা আলোচনার গতিকে কিছুটা ধীর করেছে। এ ছাড়া রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য প্রক্রিয়া নিয়ে হেফাজতের ভূমিকা নিয়েও ভিন্নমত রয়েছে। কারো কারো মতে, ঐক্য চূড়ান্ত হওয়ার পর হেফাজতের সরাসরি সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া থেকে সরে আসা উচিত। যেহেতু হেফাজত একটি অরাজনৈতিক সংগঠন, তাই রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণে দলগুলোর নিজস্ব স্বাধীনতা থাকা জরুরি বলে তারা মনে করছেন।

একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা বলেন, কোনো অরাজনৈতিক সংগঠন সরাসরি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের সাথে সম্পৃক্ত থাকলে জটিলতা সৃষ্টির ঝুঁকি থাকে। হেফাজত কেবল ঐক্যের ছায়া হিসেবে থেকে দলগুলোর মধ্যে সংহতি বজায় রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে। এদিকে, উপকমিটি সব দলের মতামত গ্রহণ করে যে খসড়াটি তৈরি করেছিল, সেটি ঘিরেই এখন লিয়াজোঁ কমিটি কাজ করবে। আগামী ২২ অক্টোবরের বৈঠকে এই কমিটি রূপরেখার বিতর্কিত দিকগুলোর একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান বের করার চেষ্টা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun