সংবিধানের মূলনীতি হিসেবে ‘মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনরায় যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সংবিধান সংশোধন বিষয়ক বিশেষ কমিটির আহ্বায়ক ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ রোববার সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদের গণমাধ্যম সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সংবিধানের ৮ নম্বর অনুচ্ছেদে যে মূলনীতি যুক্ত করেছিলেন, তা ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদের গণমাধ্যম সেন্টারে সংবিধান সংশোধন কমিটির তৃতীয় সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। আগামী বছরের জানুয়ারিতে সংসদের প্রথম অধিবেশনে সংবিধান সংশোধনের বিল উত্থাপন হবে।
সংবিধান সংশোধন কমিটির তৃতীয় সভা শেষে সালাউদ্দিন আহমদ জানান, বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হলো জুলাই জাতীয় সনদ। পাশাপাশি নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ম্যান্ডেট পাওয়া বিষয়গুলোও সংবিধান সংশোধনে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে সংবিধানের প্রস্তাবনা, অনুচ্ছেদ ৮, ৪৮, ৫৬ ও ১৪২-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিবর্তন আসতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন। এটি আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি। এসব ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনলে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের আগে অবশ্যই জনগণকে গণভোট দিতে হবে।
৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে সংবিধানের ১৫তম সংশোধনী বাতিল হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে আহ্বায়ক জানান, এর ফলে ১৪২ অনুচ্ছেদটি বর্তমানে পুনরুজ্জীবিত হয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা স্থায়ীভাবে সুরক্ষার লক্ষ্যে বিএনপির পক্ষ থেকে একটি প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। তারা চায়, ১৭ বছরের সংগ্রামের ফসল এই ব্যবস্থা যেন ভবিষ্যতে কোনো সংসদ সহজে বাতিল করতে না পারে। এর জন্য সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদগুলোতে এমন বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব এসেছে, যাতে ভবিষ্যতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের জন্য গণভোটের প্রয়োজন হয়।
সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়া কতদিনের মধ্যে সম্পন্ন হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে সালাউদ্দিন আহমদ জানান, ডিসেম্বরের মধ্যেই কমিটির রিপোর্ট সংসদে উপস্থাপনের জন্য জোর প্রচেষ্টা চলছে। ওই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তীতে আইন মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় বিল আনা হবে।