1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম
সাপ্লাই লাইন করা হয়েছে, সঠিকভাবে জ্বালানি আসছে: জ্বালানি মন্ত্রী কেন বিশ্বজুড়ে বাড়ছে বোয়িং বিমানের চাহিদা? গাজার মানবিক সংকট নিরসনে কাতার-জর্ডান-যুক্তরাজ্যের যৌথ উদ্যোগ সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুর নেপালের হিমলুং হিমাল বেসক্যাম্পে তুষারধসে নিখোঁজ ১০ দীর্ঘ ৮ বছর পর যুক্তরাষ্ট্রের ভুট্টা বাজারে ফিরল বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার চিড়িয়াখানায় আসছে চীনের দুই জায়ান্ট পান্ডা নিয়োগপত্রের দাবিতে শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন প্রাথমিকের প্রার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে শক্তিশালী সামুদ্রিক ঝড় নরইস্টার: বাতিল শত শত ফ্লাইট গাজীপুরের শ্রীপুরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমিতে নির্মাণকাজের অভিযোগ

নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নয়া কৌশল: ৩০ সেকেন্ডের ঝটিকা মিশন

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নতুন এক কৌশলে নাশকতা ও অস্থিতিশীলতা তৈরির ছক কষছে। গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, দলটির নেতাকর্মীরা রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় ঝটিকা মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ভীতি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। এই তৎপরতাকে গোয়েন্দারা তাদের ভবিষ্যতের বড় নাশকতার পরিকল্পনার অংশ বা ‘টেস্ট কেস’ হিসেবে দেখছে। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে ধানমণ্ডি ২৭ নম্বর রোডের বাটা শোরুমের সামনে মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের ব্যানারে অর্ধশতাধিক মানুষ জড়ো হয়। সেখানে ১০ সেকেন্ড স্লোগান দেয়ার পরপরই দু’টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। পুরো ঘটনাটি মোবাইলে ভিডিও ধারণ করার পর মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে তারা অলি-গলিতে উধাও হয়ে যায়। এই ঘটনায় পুলিশ চারজনকে আটক করেছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন স্থানে নাশকতার আলামতও দেখা যাচ্ছে। পরে ওই নেতাকর্মীরা ৩০ সেকেন্ডেই গলির ভেতর হাওয়া। এলাকাবাসী কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা গায়েব হয়ে যায়। স্থানীয়রা জানান, গভীর রাতে মোটরসাইকেলে এসে দু’জন যুবক ককটেল ফাটিয়ে চলে যায়।

গোয়েন্দা সূত্রগুলো জানিয়েছে, ‘৩০ সেকেন্ডের মিশন’ এখন নিষিদ্ধ দলের নতুন গেরিলা কৌশল। তাদের কাজের ধরন হলো, প্রথমে কিছু যুবক ব্যানারে জড়ো হওয়া, ১০ সেকেন্ডের মধ্যে ‘জয়বাংলা’ স্লোগান দিয়ে ভিডিও ধারণ করা এবং শেষ ১০ সেকেন্ডে দ্রুত পালিয়ে যাওয়া। বিদেশে থাকা একটি টেলিগ্রাম গ্রুপে এই ভিডিওগুলো পাঠানোর জন্য আগে থেকেই একজনকে দায়িত্ব দেয়া থাকে। ককটেল বিস্ফোরণগুলোও ঠিক একইভাবে চোখের পলকে সম্পন্ন করা হয়। গত এক সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্ট ফটক, শিল্পকলা একাডেমি, যাত্রাবাড়ী, মালিবাগ, আগারগাঁও, মহাখালী, নিউমার্কেট, বাবুবাজার, কমলাপুর স্টেশন, মগবাজার, মৎস্য ভবন, রামপুরা বিটিভি ভবন, কাফরুল, মিরপুর-১১, মধ্য বাড্ডা ও পল্লবীসহ অন্তত ১২টি স্পটে ৩২টি ককটেল বিস্ফোরণ ও নাশকতার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে ৯ হাজার মুখোশ ও বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নেতাদের ফাঁসির রায় ঘোষণার পর থেকে এই ধরনের নাশকতা আরও বেড়েছে বলে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথম ১০ সেকেন্ডে একটি গলি বা মার্কেটের ভেতর কিছু যুবক ব্যানার নিয়ে বের হয়ে রাস্তায় জড়ো হয়। পরে সেই ১০ সেকেন্ডের ভিডিওটি টেলিগ্রামের একটি গোপন গ্রুপে বিদেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

নিষিদ্ধ দলটির কর্মীরা তিনটি স্তরে বিভক্ত হয়ে ঢাকা ও আশপাশে অবস্থান করছে। প্রথম স্তরে ছাত্রাবাস ও মেসগুলোতে সাধারণ ছাত্র বা চাকরিজীবীর ছদ্মবেশে থাকা কর্মীরা ককটেল বহন ও মিছিলের জনবল হিসেবে কাজ করছে। দ্বিতীয় স্তরে মাঝারি পর্যায়ের নেতারা স্বামী-স্ত্রী বা ব্যাচেলর পরিচয়ে বিভিন্ন ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে নাশকতা ও মিছিলের পরিকল্পনা করছে। খিলগাঁও, বাড্ডা, যাত্রাবাড়ী, মোহাম্মদপুর ও উত্তরায় এমন অন্তত ৩০টি বাসার সন্ধান মিলেছে। তৃতীয় বা সুরক্ষিত স্তরে অর্থদাতা ও শীর্ষ সমন্বয়কারীরা লাক্সারি অ্যাপার্টমেন্ট বা হোটেলে থাকছেন। তারা ঘন ঘন অবস্থান পরিবর্তন করছেন। বিভিন্ন বিকাশ ও নগদ নম্বরের মাধ্যমে ভিডিও পাঠালে প্রতিবার ৩ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেয়া হচ্ছে, যা তৃণমূল কর্মীদের উদ্বুদ্ধ করছে। এই নেটওয়ার্কে দেশের ৩০-৪০ জন ব্যবসায়ী ও ঠিকাদার অর্থায়ন করছে বলে গোয়েন্দারা নিশ্চিত হয়েছেন।

সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডিএমপি গত এক সপ্তাহে কয়েক শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। এছাড়া চট্টগ্রাম-৩ আসনের সাবেক এমপি মাহফুজুর রহমান মিতাকে গুলশান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যিনি আত্মগোপনে থেকে নাশকতায় অর্থায়ন করছিলেন। যাত্রাবাড়ীতে বিস্ফোরণের ঘটনায় আটক রায়হান উদ্দিন ও সুপ্রিম কোর্ট ককটেল মামলায় গ্রেপ্তার সাকিব ওরফে আসিফ জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, তাদের নির্দেশ দেয়া হচ্ছে বিদেশে পলাতক নেতাদের কাছ থেকে। পুলিশ ও গোয়েন্দা ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও, নতুন করে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে পুলিশের ভেতরে থাকা আওয়ামী কানেকশন ও ঘন ঘন বদলিকে অনেক সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। নজরদারিতে রাখা হয়েছে অর্ধশত কেন্দ্রীয় নেতাকে। এছাড়া জাসদের অফিস থেকে নিষিদ্ধ দলের সাথে যুক্ত সন্দেহে কয়েক শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। নাশকতা ঠেকাতে ডিবি’র প্রতিটি বিভাগকে অন্তত ১০-১২ জন করে অর্থদাতার তালিকা দিয়ে দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এতে পলাতক সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকের ছবি। গতকাল রাতে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় আরও একটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun