কিশোর অপরাধ দমনে কেবল সদস্যদের গ্রেপ্তার নয়, বরং এসব চক্রের মূলহোতাদের শনাক্ত করে তাদের নেটওয়ার্ক পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করতে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ ক্ষেত্রে কোনো শর্টকাট সমাধান প্রত্যাশিত ফল দেবে না বলে মন্তব্য করেছেন এসআরবি-২-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নায়মুল হাসান। সোমবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, কেরানীগঞ্জ মডেল থানার আরশিনগর এলাকার ফরহাদ হত্যা মামলার তিন নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি এবং আরমান-শাহরুখ গ্রুপের অন্যতম শীর্ষ নেতা সবুজ হোসেন আরমানকে (২১) গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-২। গত ১৫ সেপ্টেম্বর কেরানীগঞ্জের একটি সেলুনে ঢুকে আরমান ও তার সহযোগীরা ফরহাদকে গুলি এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহতের মা নাছিমা বেগম বাদী হয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
অভিযানের বর্ণনা দিয়ে এসআরবি-২-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ২৮ সেপ্টেম্বর ভোররাতে মোহাম্মদপুর এলাকার বুদ্ধিজীবী ১ নম্বর রোড থেকে আরমানকে আটক করা হয়। তার তথ্যের ভিত্তিতে মোহাম্মদপুরের কাটাসুর এলাকায় শ্রমিকদের অস্থায়ী টিনশেডে তল্লাশি চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিন জব্দ করা হয়। এছাড়াও আরমানের ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে পাঁচটি সামুরাই উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে একটি হত্যায় সরাসরি ব্যবহৃত হয়েছিল বলে নিশ্চিত হয়েছে বাহিনীটি। হত্যাকাণ্ডের পর আসামিদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায় এসআরবি-২। তাকে গ্রেপ্তারের পর হত্যাকাণ্ডের কারণ জানতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
গ্রেপ্তারকৃত আরমানের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় চুরি, দাঙ্গা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হত্যার চেষ্টার অভিযোগে পাঁচটি মামলা চলমান রয়েছে। এর আগেও একাধিকবার তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। এবার যেন আইনের ফাঁকফোকর গলে আরমান বেরিয়ে আসতে না পারে, সেই বিষয়ে তৎপর থাকার কথা জানান অতিরিক্ত ডিআইজি নায়মুল হাসান। এই চক্রের অপর সদস্য সাব্বির ও সোহেলসহ বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে। এর আগে ১৬ আগস্ট আরমান-শাহরুখ গ্রুপের আরেক শীর্ষ নেতা শাহরুখকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। নায়মুল হাসান বলেন, আরমান বিভিন্ন জায়গায় পালিয়ে থাকলেও ঢাকাতেই অবস্থান করছিল।
কিশোর গ্যাংয়ের শিকড় উপড়ে ফেলার কৌশল সম্পর্কে এসআরবি-২-এর অধিনায়ক বলেন, চক্রের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের গ্রেপ্তার করলে গ্রুপগুলো মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। তবে এটি সমস্যার চূড়ান্ত সমাধান নয়। বর্তমানে এসআরবি-২-এর গবেষণা ও উন্নয়ন (আরএনডি) সেল এসব অপরাধী সংগঠনের নেপথ্যের কারণগুলো নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা করছে। শিগগিরই অপরাধীদের কার্যক্রম ও তাদের গড়ে ওঠার কারণগুলো চিহ্নিত করে আরও সমন্বিত ও বিস্তৃত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।