1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম
চুক্তিভঙ্গ ও অসম্পূর্ণ কাজের দায়ে ১২ লাখ রিয়াল জরিমানা দুর্গাপূজায় সরকারি চাকরিজীবীদের টানা পাঁচ দিনের ছুটি রূপপুরে ইউরেনিয়াম পরিবহন: আকাশসীমা নিয়ে যা জানাল পাকিস্তান কুষ্টিয়ায় কিশোরীকে নির্যাতনের মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অসমাপ্ত আত্মজীবনী কি নিষিদ্ধ? ইতিহাসের পাতা মোছা যায় না নৈরাজ্য নেই, আগের চেয়ে দেশের পরিস্থিতি ভালো: তথ্য উপদেষ্টা দক্ষিণ এশিয়ার সেরা আঞ্চলিক এয়ারলাইন্স তালিকায় ইউএস-বাংলার উন্নতি আল-আকসায় ইসরায়েলি অনুপ্রবেশের তীব্র নিন্দা কাতারের ফেনীতে প্রধানমন্ত্রী: বৃহস্পতিবার দিনভর থাকছে নানা কর্মসূচি ভারত সফর নিয়ে তাড়াহুড়োর কিছু নেই: ভারতীয় হাইকমিশনার

অসমাপ্ত আত্মজীবনী কি নিষিদ্ধ? ইতিহাসের পাতা মোছা যায় না

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

লেখকের তথ্য

  • নাম: ড. নাদিম মাহমুদ
  • পেশা: গবেষক, ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়
  • মতামত: লেখকের নিজস্ব

এই বাংলায় বই নিষিদ্ধ করার ইতিহাস দীর্ঘ। কখনো ক্ষমতা হারানোর আতঙ্ক, আবার কখনো কোনো উগ্রবাদী গোষ্ঠীর চাপের মুখে বিভিন্ন সময়ে বই বাজেয়াপ্ত হয়েছে। ব্রিটিশ শাসনামলে নজরুলের সাহিত্য থেকে শুরু করে পাকিস্তান আমলে রবীন্দ্রসংগীতের ওপর নিষেধাজ্ঞা—এমন নজির অহরহ। স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সরকারও একই পথে হেঁটেছে। ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে এ কে খন্দকারের লেখা ‘১৯৭১: ভেতরে বাইরে’ বইটি নিষিদ্ধ করার দাবি উঠেছিল জাতীয় সংসদে, যাতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ আনা হয়েছিল। ব্রিটিশ শাসনামলে যেমন কাজী নজরুল ইসলামের বিষের বাঁশী ও ভাঙার গান নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, তেমনি পাকিস্তান আমলে রবীন্দ্রসংগীত ও রবীন্দ্রনাথকে বাদ দেওয়া হয়নি। স্বাধীনতার পরও বিভিন্ন সময়ে আমাদের লেখক-কবিদের বই বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, এমনকি প্রকাশনীও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ‘ফ্যাসিস্ট’ তকমায় বই পোড়ানো আর লাইব্রেরি ভাঙার ‘রাজনীতি’। কখনো কখনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এসব ‘অসাড়’ বই কেনার তাগিদ দেওয়া হতো, যা নিয়ে সংবাদও প্রকাশিত হয়েছে।

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর পরিস্থিতির নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে। দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গ্রন্থাগার থেকে বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ কিংবা ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে লেখা বই সরিয়ে ফেলার হিড়িক পড়ে যায়। এর মধ্যে ১৮ আগস্ট ২০২৫ সালে বরগুনা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের গ্রন্থাগার থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’সহ চার শতাধিক বই পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে।

শেখ হাসিনার শাসনামলে একুশের বইমেলায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শেখ মুজিবকে নিয়ে অপ্রয়োজনীয় বই প্রকাশের একটি প্রবণতা ছিল। এসব বই দিয়ে অনেকে সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করত। তবে বইয়ের গুরুত্ব ও মান পাঠকই বিচার করেন। সাম্প্রতিক ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে একটি অনভিপ্রেত ঘটনা সামনে এসেছে। সেদিন বিকেলে বাংলাবাজারে অবস্থিত প্রকাশনা সংস্থা দ্য ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল)-এর শোরুমে গিয়ে কয়েকজন ব্যক্তি আক্রমণাত্মক আচরণ করেন এবং ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ নিষিদ্ধ করার দাবি তোলেন। তাঁরা শোরুমের শাটার নামিয়ে বিক্রয়কর্মীদের হয়রানি করেন এবং পরে তাঁদের ফরিদাবাদ পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে আটকে রাখা হয়। শেখ হাসিনার প্রশংসায় ভাসিয়ে বইও লেখা হতো। এসব বইয়ের প্রতি পাঠকদের তেমন আগ্রহ ছিল না। তবে সুবিধাবাদী পক্ষ এসব বই দেখিয়ে নানা সুবিধা আদায়ে পিছপা হতো না। সব বইয়ের গুরুত্ব যে সমান নয়, তা পাঠকেরাও ভালো করেই বোঝেন।

একটি প্রতিষ্ঠিত প্রকাশনীতে ঢুকে সাধারণ মানুষের এভাবে বই নিষিদ্ধ করার দাবি তোলা এবং পুলিশের বিচার-বিবেচনা ছাড়াই বিক্রয়কর্মীদের আটক করা আইনবহির্ভূত। অসমাপ্ত আত্মজীবনী কোনো সাধারণ বই নয়; এটি একজন রাষ্ট্রনায়কের সাড়ে ৪ হাজার দিনের জেলজীবন ও দেশ গড়ার স্বপ্নের দলিল। যে বই ইতিহাসের অমূল্য রত্ন, তাকে নিষিদ্ধ করার চেষ্টা কিসের ইঙ্গিত বহন করে? যারা বইটির গায়ে কালিমা লেপন করতে চাইছেন, তাঁরা কি আদৌ বইটি পড়েছেন?

সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, চিন্তা ও বাক্স্বাধীনতা নাগরিকের মৌলিক অধিকার। কোনো বই আইন ভঙ্গ করলে তার প্রতিকারের নির্দিষ্ট আইনি পথ রয়েছে—সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করতে পারে অথবা সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি আদালতে যেতে পারেন। কিন্তু কোনো ব্যক্তিগত গোষ্ঠী বা অতি উৎসাহী দলের কোনো বই বিক্রি বন্ধের এখতিয়ার নেই। প্রশাসনের উচিত অবিলম্বে এই হয়রানির ব্যাখ্যা দেওয়া এবং হামলাকারীদের চিহ্নিত করা।

ইতিহাস নিয়ে কারো দ্বিমত থাকলে তার জবাব দেওয়া উচিত পাল্টা যুক্তিতে বা নতুন বই লিখে। দোকানের শাটার টেনে ধরে বা বই পুড়িয়ে ইতিহাস মোছা সম্ভব নয়। বঙ্গবন্ধু, সোহরাওয়ার্দী বা তাজউদ্দীনের মতো ব্যক্তিদের কর্ম ও জীবনের দলিলে মিশে আছে বাংলাদেশের জন্মইতিহাস। বইয়ের ওপর ক্ষোভ ঝাড়ার চেয়ে বরং সত্য জানতে বই পড়ার সংস্কৃতি তৈরি করা প্রয়োজন। বিশ্বজুড়ে আত্মজীবনীমূলক বইগুলো গবেষণার খোরাক জোগায়, আর সেই পথ রুদ্ধ করা মানেই জ্ঞানের প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করা।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun