লিভারপুলে আয়োজিত লেবার পার্টির বার্ষিক সম্মেলনে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম দাবি করেছেন যে, ব্রেক্সিট যুক্তরাজ্যের জন্য ইতিবাচক হওয়ার চেয়ে নেতিবাচক প্রভাবই বেশি ফেলেছে। তিনি চলতি শতাব্দীর বাকি সময়ে যুক্তরাজ্যের অগ্রগতির পথ সুগম করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে ভবিষ্যতের সম্পর্ক নিয়ে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সম্মেলনের আলোচনায় বার্নহাম ইইউকে যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক বাজার হিসেবে অভিহিত করেছেন।
২০২০ সালে যুক্তরাজ্য আনুষ্ঠানিকভাবে ইইউ থেকে বেরিয়ে আসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। এর আগে ২০১৬ সালের ঐতিহাসিক গণভোটে প্রায় ৫২ শতাংশ ভোটার জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষে রায় দিয়েছিলেন। সেই ঘটনার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পর্যালোচনা করে বর্তমান ব্রিটিশ সরকার ইইউর সঙ্গে সম্পর্কের একটি পরিষ্কার ও স্থায়ী অবস্থান নির্ধারণ করতে চায়। প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, চলমান সম্মেলনের মাধ্যমেই তিনি যুক্তরাজ্যের সামনে বিদ্যমান বিকল্পগুলো তুলে ধরবেন এবং সেগুলোর ওপর জাতীয় ঐকমত্য তৈরির চেষ্টা করবেন।
ইইউর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে একটি স্বচ্ছ অবস্থান থাকলে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপ মহাদেশের ভবিষ্যৎ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়েও অনিশ্চয়তা দূর হবে বলে তিনি মনে করেন। একই সঙ্গে দেশের নির্বাচনি ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বার্নহাম। লেবার পার্টির আগামী নির্বাচনি ইশতেহারে এই সংস্কারের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এ লক্ষ্যে তিনি সব রাজনৈতিক দলকে নিয়ে একটি নতুন জাতীয় নির্বাচনি সংস্কার কমিশন গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। এসব বিকল্পের মধ্যে একটি বিষয়ে ঐকমত্য তৈরি করা সম্ভব কি না, সেটিও তিনি দেখবেন বলে জানান।
প্রধানমন্ত্রী জানান, অতীতে দুইবার নির্বাচনি সংস্কারের পক্ষে জনগণের রায় এসেছিল এবং তিনি সেই জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রতিটি ভোটের গুরুত্ব নিশ্চিত করা এবং দেশের প্রতিটি নাগরিকের কণ্ঠস্বর যেন সঠিকভাবে প্রতিনিধিত্ব পায়, সেটিই তার নতুন সংস্কার উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। লেবার পার্টির ২০২৬ সালের সম্মেলনের নথিপত্রে অ্যান্ডি বার্নহামকে দলটির নতুন নেতা ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে।