হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের ব্যয় আরও ৮৪৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকা বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। মঙ্গলবার সচিবালয়ে আয়োজিত একনেক সভায় এই ব্যয় বৃদ্ধিসহ মোট ১৩টি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সংশোধিত প্রস্তাব অনুযায়ী, এই মেগা প্রকল্পের মোট ব্যয় এখন দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ২১৩ কোটি ১০ লাখ টাকা এবং বাস্তবায়নের নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৭ সালের জুন মাস পর্যন্ত। মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় ১২টি প্রকল্পের সঙ্গে শাহজালাল বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।
২০১৬ সালের জুলাই মাসে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের মূল মেয়াদ ছিল ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত। তবে নানা কারণে কাজ নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন না হওয়ায় দ্বিতীয়বার ব্যয়ের পরিমাণ বাড়িয়ে ২১ হাজার ৩৬৫ কোটি ৫২ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছিল। বর্তমানে তৃতীয় সংশোধনী অনুমোদনের মাধ্যমে প্রকল্পের মেয়াদ আরও বাড়ানো হলো। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, সভায় অনুমোদিত মোট ১৩টি প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার ৮২৩ কোটি টাকা। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের নথি অনুযায়ী, প্রকল্পটির শুরুতে অনুমোদিত ব্যয় ছিল ১৩ হাজার ৬১০ কোটি টাকার কিছু বেশি। পরে দ্বিতীয় সংশোধনীতে ব্যয় বেড়ে ২১ হাজার ৩৬৫ কোটি ৫২ লাখ টাকায় দাঁড়ায়। অর্থাৎ প্রকল্পটির বড় অংশই ঋণনির্ভর অর্থায়নের মাধ্যমে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। মূল অনুমোদিত ব্যয়ের তুলনায় বর্তমান প্রস্তাবিত ব্যয় অনেক বেড়েছে।
প্রকল্পের নতুন সংশোধিত আর্থিক কাঠামো অনুযায়ী, সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৫ হাজার ১১৫ কোটি ৯৭ লাখ টাকা জোগান দেওয়া হবে। বাকি ১৭ হাজার ৯৭ কোটি ১২ লাখ টাকা নেওয়া হচ্ছে ঋণ সহায়তা থেকে, যা প্রকল্পটির অর্থায়নে ঋণের বড় নির্ভরতাকে স্পষ্ট করে। বিমানবন্দরের যাত্রীসেবা ও উড়োজাহাজ পরিচালনার সক্ষমতা বাড়াতে টার্মিনাল ভবনসহ নানা অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছিল।
প্রকল্পটির ব্যয় ও মেয়াদ বারবার বৃদ্ধি পাওয়া নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা থাকলেও, কর্তৃপক্ষ এখন নির্ধারিত নতুন সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ করতে বদ্ধপরিকর। সরকারের প্রত্যাশা, ২০২৭ সালের জুন মাসের মধ্যে তৃতীয় টার্মিনালের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু হলে দেশের প্রধান এই বিমানবন্দরের যাত্রীসেবা ও সেবার মানে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। মূলত বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক সক্ষমতা আন্তর্জাতিক মানের করার লক্ষ্যেই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।