পর্যটন নগরী কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক আকাশপথের সঙ্গে যুক্ত করার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে আগামী অক্টোবর মাস থেকেই এখান থেকে আন্তর্জাতিক রুটে যাত্রীবাহী ফ্লাইট চলাচল শুরু হতে পারে। রানওয়ে সম্প্রসারণের ফলে বড় আকারের আন্তর্জাতিক বিমান অবতরণের সক্ষমতা অর্জনের পাশাপাশি প্রায় ১৮ হাজার বর্গমিটার আয়তনের একটি অত্যাধুনিক যাত্রী টার্মিনাল নির্মাণ করা হয়েছে, যেখানে আন্তর্জাতিক মানের সব সুযোগ-সুবিধা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিমানবন্দরে প্রায় ১৮ হাজার বর্গমিটারের আধুনিক আন্তর্জাতিক যাত্রী টার্মিনালও প্রস্তুত করা হয়েছে। এবার সেই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার প্রস্তুতি চলছে।
এর আগে বিভিন্ন কারিগরি সীমাবদ্ধতার কারণে নিয়মিত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা সম্ভব হয়নি। তবে এবার রানওয়ে, যাত্রী টার্মিনাল ও ব্যাগেজ ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলো পুরোপুরি প্রস্তুত করা হয়েছে। কক্সবাজার বিমানবন্দরের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার মো. নুর নবী জানিয়েছেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আদলেই এখানে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে উন্নত ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং সিস্টেম, এক্স-রে মেশিনসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম, যা আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করবে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে টার্মিনালের নিরাপত্তা সুপারভাইজার মো. সাইফুল্লাহ বলেন, আন্তর্জাতিক যাত্রীদের সর্বোচ্চ সুরক্ষা প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ার কারণে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে, যাতে যাত্রীরা কোনো প্রকার হয়রানি ছাড়াই নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারেন। সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় বিমানবন্দরজুড়ে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে।
এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে পর্যটন শিল্পের প্রসারের পাশাপাশি অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকা বলেন, সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হলে বিদেশি পর্যটকদের পাশাপাশি প্রবাসীরাও সরাসরি কক্সবাজারে আসার সুযোগ পাবেন। এর ফলে স্থানীয় অর্থনীতি যেমন চাঙ্গা হবে, তেমনি কার্গো সুবিধা কাজে লাগিয়ে স্থানীয় পণ্য বিদেশে রপ্তানি করা সহজতর হবে।
ভবিষ্যতে কক্সবাজার বিমানবন্দর শুধু পর্যটন কেন্দ্র হিসেবেই নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ হাব হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর মাধ্যমেই কক্সবাজারের সাথে বিশ্বের অন্যান্য গন্তব্যের সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।