কুষ্টিয়ার মিরপুরে সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নির্যাতনের দায়ে রাজিব কুমার ঘোষ নামের এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার দুপুরে কুষ্টিয়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ এইচ এম শফিকুল ইসলাম জনাকীর্ণ আদালতে আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন। ২৫ বছর বয়সী দণ্ডিত রাজিব কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার উত্তর কাটদহ গ্রামের জয় ঘোষের ছেলে। রায়ে তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাভোগ করতে হবে। এছাড়া আদায়কৃত জরিমানার অর্থ ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদানের জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মামলার বিবরণে জানা যায়, আসামি রাজিব দীর্ঘদিন ধরে স্কুলে যাতায়াতের পথে ওই কিশোরীকে উত্ত্যক্ত ও কুপ্রস্তাব দিতেন। এতে কোনো সাড়া না পেয়ে ২০২২ সালের ২ ডিসেম্বর দুপুরে কিশোরীর বাবা-মায়ের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে আসামি বাড়িতে ঢুকে জোরপূর্বক তাকে নির্যাতন করেন। এ ঘটনা কাউকে না জানানোর শর্তে আসামি তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখান। পরবর্তীতে সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করায় ভুক্তভোগী নিজেই বাদী হয়ে ২০২২ সালের ১১ ডিসেম্বর মিরপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। এতে কিশোরীর দিক থেকে কোনো সাড়া না পাওয়ায় রাজিব আরো মরিয়া হয়ে ওঠেন। পরে বিয়ের কথা বললে আসামি তা অস্বীকার করেন।
তদন্ত শেষে মিরপুর থানার উপসহকারী পুলিশ পরিদর্শক (এএসআই) মুরাদুল ইসলাম একই বছরের ৩০ ডিসেম্বর আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ জানান, আদালতের বিচারে আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সাক্ষ্য-প্রমাণে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত এই কঠোর রায় প্রদান করেন। মামলাটি তদন্ত শেষে মিরপুর থানার উপসহকারী পুলিশ পরিদর্শক (এএসআই) মুরাদুল ইসলাম একই বছরের ৩০ ডিসেম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় রাজিব কুমার ঘোষের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।