স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম অভিযোগ করেছেন, বর্তমান সরকারকে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যেই দেশের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে রংপুরের পীরগঞ্জে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, দেশে সারের কোনো প্রকৃত ঘাটতি নেই। এক্সপ্লেইনার / যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কে ভাটার টান। ‘কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, রংপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুষ্টিয়া, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, মেহেরপুর, নড়াইল—যে সমস্ত জেলা থেকে বেহেশতিরা টিকিট বিক্রি করে নির্বাচিত হয়েছে, সারের সংকট ঠিক ওই জেলাগুলাতেই কৃত্রিমভাবে দেখানো হয়েছে,’ বলেন তিনি। শাহে আলম জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম-ময়মনসিংহ বিভাগ এবং বগুড়া, রাজশাহী, পাবনা, নাটোর, কুমিল্লা, সিলেট ও বরিশাল জেলায় সারের সংকট হয়নি। ‘মাত্র এই ১০ থেকে ১১টি জেলায় সারের সংকট,’ যোগ করেন তিনি। বিরোধীদলের কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য কী জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘বিএনপি সরকার জনগণের জন্য যে সুন্দর সুন্দর কর্মসূচিগুলো মাঠে নিয়ে আসছে, এই কর্মসূচিগুলোকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য এবং দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করা ও বাইরের।
প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্যমতে, যারা অতীতে বিতর্কিত উপায়ে নির্বাচিত হয়েছিল, তাদের রাজনৈতিক কর্মীদের মাধ্যমেই এই পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে। পরিস্থিতির মোকাবিলায় সরকার বিদ্যমান ডিলার ব্যবস্থার বাইরে নতুন করে ডিলার নিয়োগের কাজ শুরু করেছে। প্রতিমন্ত্রী নিজেও তার নির্বাচনী এলাকায় ডিলারদের কার্যক্রম নিয়মিত তদারকির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ডিলারের নিয়োগ দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে তার নির্বাচনী এলাকায় যাতে সারের সংকট না থাকে, সে জন্য তিনি নিজে দেখভাল করবেন প্রতিশ্রুতি দিয়ে আলম বলেন, ‘প্রয়োজনে নিজে ডিলারদের গোডাউন চেক করব যে তারা মজুত রেখেছে কি না বা জনগণকে দিচ্ছে কি না?’।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বিদ্যমান বিদ্যুতের অব্যবস্থাপনা কাটিয়ে উঠতে সময় প্রয়োজন। এছাড়া বৈশ্বিক পরিস্থিতির সাথে তাল মিলিয়ে মূল্য সমন্বয় করা হচ্ছে। দীর্ঘ মেয়াদে নোনা পানি শোধন করে পাইপলাইনে সরবরাহের বড় পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। পাশাপাশি মালয়েশিয়ায় আগামী ছয় মাসের মধ্যে দুই লাখ শ্রমিক পাঠানোর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমের পারিবারিক প্রতিষ্ঠানের সরকারি কাজের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও তিনি মূলত সরকারের বর্তমান উন্নয়ন এজেন্ডা বাস্তবায়নের ওপরই জোর দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, অনির্বাচিত সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিষ্ঠার সাথে কাজ করছে।