স্কাইট্র্যাক্সের ২০২৬ সালের আঞ্চলিক এয়ারলাইন্স র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স এক ধাপ উন্নতি করেছে। ভারত ও দক্ষিণ এশিয়ার সেরা আঞ্চলিক এয়ারলাইন্সগুলোর তালিকায় এবার প্রতিষ্ঠানটি চতুর্থ স্থান অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগের দুই বছর তথা ২০২৪ ও ২০২৫ সালের র্যাঙ্কিংয়ে ইউএস-বাংলা পঞ্চম অবস্থানে ছিল।
সর্বশেষ প্রকাশিত স্কাইট্র্যাক্সের বিশ্ব এয়ারলাইন্স পুরস্কারের এই তালিকায় প্রথম স্থানে উঠে এসেছে মালদ্বীপের মালদিভিয়ান। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে নেপাল এয়ারলাইন্স এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছে ভারতের অ্যালায়েন্স এয়ার। বাংলাদেশের ইউএস-বাংলার ঠিক পরেই পঞ্চম স্থানে রয়েছে পাকিস্তানের সেরিনএয়ার। উল্লেখ্য যে, ২০২৫ সালের আঞ্চলিক এয়ারলাইন্স বিভাগে তালিকার শীর্ষে ছিল এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস। ২০২৫ সালের তালিকায় আঞ্চলিক এয়ারলাইন বিভাগে প্রথম হয়েছিল এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস। নতুন এই অবস্থানকে ইউএস-বাংলার জন্য অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এরপর ছিল মালদিভিয়ান, অ্যালায়েন্স এয়ার ও স্টার এয়ার।
যাত্রীদের সন্তুষ্টির ওপর ভিত্তি করে মূলত এই র্যাঙ্কিং তৈরি করা হয়। স্কাইট্র্যাক্স প্রতি বছর বিশ্বের শতাধিক দেশের যাত্রীদের অংশগ্রহণে একটি বিশাল পরিসরে জরিপ পরিচালনা করে। ২০২৬ সালের এই পুরস্কারের জন্য জরিপটি ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত সময়কালে সম্পন্ন হয়েছে। স্কাইট্র্যাক্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের সর্বশেষ এই মূল্যায়নে বিশ্বের ৩০০টিরও বেশি এয়ারলাইন্সকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। মূলত ভ্রমণ অভিজ্ঞতা, বিমানসেবা এবং বিভিন্ন পর্যায়ের পরিষেবার ওপর যাত্রীদের দেওয়া মতামতের ভিত্তিতেই এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এতে বিশ্বের শতাধিক দেশের যাত্রীরা অংশ নিয়েছেন।
স্কাইট্র্যাক্সের সংজ্ঞা অনুসারে, আঞ্চলিক এয়ারলাইন্স বলতে সাধারণত এমন পূর্ণাঙ্গ সেবা প্রদানকারী বিমান সংস্থাকে বোঝানো হয়, যারা অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রায় ছয় ঘণ্টা দূরত্বের ফ্লাইট পরিচালনা করে থাকে। তবে নির্দিষ্ট কিছু এয়ারলাইন্স সীমিত আকারে দীর্ঘ দূরত্বের ফ্লাইটও পরিচালনা করে থাকে।
র্যাঙ্কিংয়ে নিজের অবস্থান উন্নত করা প্রসঙ্গে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, তারা ভবিষ্যতে তাদের বহর সম্প্রসারণ, আন্তর্জাতিক রুটের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং নির্দিষ্ট গন্তব্যে ফ্লাইটের ফ্রিকোয়েন্সি বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। পাশাপাশি যাত্রীসেবায় অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সুবিধা প্রবর্তনের ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। দেশের বেসরকারি বিমান চলাচল খাতে ইউএস-বাংলা বর্তমানে একটি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রুটে সেবা পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি বহর ও যাত্রীসেবার গুণগত মান উন্নয়নের মাধ্যমে সামনের দিনগুলোতে আরও এগিয়ে যাওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য। স্কাইট্র্যাক্সের ২০২৬ সালের এই চতুর্থ স্থান অর্জনকে ইউএস-বাংলা তাদের চলমান অগ্রযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছে।