বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সাম্প্রতিক বোয়িং উড়োজাহাজ ক্রয়ের চুক্তির পেছনে কোনো গোপন উদ্দেশ্য বা এজেন্ডা নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, বাংলাদেশকে একটি আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বিমান বহরের আকার বড় করা অপরিহার্য। দেশের সামগ্রিক এভিয়েশন খাতের চাহিদা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই উড়োজাহাজগুলো কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন চলাকালে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে নতুন করে ১১টি উড়োজাহাজ কেনার একটি সম্পূরক চুক্তি স্বাক্ষর করে বিমান। এই ক্রয়াদেশের তালিকায় রয়েছে পাঁচটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার এবং ছয়টি ৭৩৭-৮ মডেলের উড়োজাহাজ। এর আগে গত ৩০ এপ্রিল বিমান ১৪টি উড়োজাহাজ ক্রয়ের চুক্তি করেছিল, যেখানে আটটি ৭৮৭-১০, দুটি ৭৮৭-৯ এবং চারটি ৭৩৭-৮ মডেলের বিমান অন্তর্ভুক্ত ছিল। সব মিলিয়ে চলতি বছরের বোয়িং কর্মসূচির আওতায় বিমানের মোট পরিকল্পনায় রয়েছে ১৩টি ৭৮৭-১০, দুটি ৭৮৭-৯ এবং ১০টি ৭৩৭-৮ মডেলের উড়োজাহাজ।
বোয়িং কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৭৮৭ ড্রিমলাইনার ও ৭৩৭ ম্যাক্স পরিবারের এই আধুনিক উড়োজাহাজগুলো বহরে যুক্ত হলে বিদ্যমান পুরোনো বিমানের তুলনায় জ্বালানি খরচ ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কম হতে পারে। মূলত যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘ দূরত্বের রুটগুলোতে একক-আইলভিত্তিক নেটওয়ার্কের কার্যকারিতা বাড়াতে এই নতুন বিমানগুলো কার্যকর ভূমিকা রাখবে। অন্যদিকে ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজগুলো একক-আইলভিত্তিক নেটওয়ার্কে তুলনামূলক দীর্ঘ দূরত্বের রুট পরিচালনায় ব্যবহারের সুযোগ দেবে।
বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমী এ হোসাইন জানান, জাতীয় পতাকাবাহী এই সংস্থার দীর্ঘমেয়াদী বহর আধুনিকায়ন এবং নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই নির্দিষ্ট প্রয়োজনীয়তা যাচাই-বাছাই করে এই ক্রয়াদেশ দেওয়া হয়েছে। বোয়িংয়ের সাথে দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পর্ক এবং তাদের দেওয়া বিক্রয়োত্তর সহায়তা বিমানের আস্থা ও নির্ভরযোগ্যতা বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বোয়িংয়ের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কও উড়োজাহাজ সরবরাহ ও পরবর্তী সহায়তা ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে আস্থা তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।