1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
মেজর আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ জানালেন জামায়াত আমির আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা নিয়ে কী বলছে জামায়াত? নওগাঁয় তুচ্ছ ঘটনায় ছুরিকাঘাতে কৃষক নিহতের ঘটনায় উত্তেজনা কর্মজীবী মায়েদের বড় চ্যালেঞ্জ শিশু রাখার ডে-কেয়ার সংকট কুমিল্লায় কারিগরি মেলায় শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রযুক্তির প্রদর্শনী বাংলাদেশের ক্ষমতা এনসিপির হাতে যাবে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী শাহজালাল বিমানবন্দরে স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার ইরানকে চাপে রাখতে ৩টি বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করছে যুক্তরাষ্ট্র না ফেরার দেশে বিডিনিউজটোয়েন্টিফোরডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতা

তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে জানেন মাত্র সাড়ে ১০ শতাংশ

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬

দেশের নাগরিকদের মাত্র ১০ দশমিক ৫ শতাংশ তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে অবগত রয়েছেন। যদিও ২০১৯ সালে এই হার ছিল ৭ দশমিক ৭ শতাংশ, তবে সচেতনতা বাড়লেও আইন প্রয়োগের হার এখনো সন্তোষজনক নয়। মিডিয়া রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এমআরডিআই) এবং তথ্য অধিকার ফোরামের করা এক জাতীয় জরিপ থেকে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। এই জরিপে ৩ হাজার ২০০ নাগরিক অংশ নিয়েছেন, যার পাশাপাশি তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা ও আপিল কর্তৃপক্ষের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তথ্য কমিশনের ১০০টি সিদ্ধান্ত বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার এমআরডিআইয়ের ফেসবুক পেজে জরিপের ফল প্রকাশ করা হয়।

জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে যারা আইনটি সম্পর্কে জানেন, তাদের মাত্র ৪ দশমিক ৬ শতাংশ কখনো তথ্য চেয়ে আবেদন করেছেন, যা ২০১৯ সালে ছিল ২ দশমিক ৮ শতাংশ। আইন সম্পর্কে সচেতনদের মধ্যে প্রায় ৭২ শতাংশ নাগরিক মনে করেন, ভবিষ্যতে সরকারি দপ্তরে তাদের তথ্যের প্রয়োজন হতে পারে। এছাড়া স্থানীয় সমস্যা সমাধানে তথ্যের ভূমিকা নিয়ে ৮৭ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ ইতিবাচক ধারণা পোষণ করেন। তবে আবেদন করার নিয়ম বা পদ্ধতি সম্পর্কে অনেকেরই অস্পষ্ট ধারণা রয়েছে। সচেতন উত্তরদাতাদের মাত্র সাড়ে ৮ শতাংশ আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানেন। সচেতন উত্তরদাতাদের মাত্র সাড়ে ৮ শতাংশ বলেছেন, তথ্য চাওয়ার নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করতে হয়—এটি তাঁরা জানেন। তবে এক-চতুর্থাংশের বেশি উত্তরদাতা কোন তথ্য তাঁদের কাজে লাগবে, তা নির্দিষ্ট করে বলতে পারেননি। আবেদনকারীদের অভিজ্ঞতাও সব ক্ষেত্রে ইতিবাচক নয়।

তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তাদের প্রায় ৯৮ শতাংশ আইনটি সম্পর্কে জানা থাকলেও, আবেদন প্রক্রিয়ায় পূর্ণাঙ্গ ধারণা রয়েছে মাত্র ৩৫ শতাংশের। তাদের মধ্যে ৪৯ শতাংশ কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ পেয়েছেন এবং ৬৪ শতাংশ আবেদনগুলোর সমন্বিত কোনো নথি সংরক্ষণ করেন না। অন্যদিকে, যারা তথ্য চেয়ে আবেদন করেছেন তাদের মধ্যে ৫১ দশমিক ৫ শতাংশ নেতিবাচক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে তথ্যের জন্য দেরি হওয়া, আবেদন গ্রহণে অনীহা, অপ্রয়োজনীয় ফি দাবি করা এবং লিখিত জবাব প্রদানে অস্বীকৃতি। তাঁদের ৪৮ দশমিক ৫ শতাংশ তথ্য পাওয়ার অভিজ্ঞতাকে ইতিবাচক বলেছেন; ৫১ দশিক ৫ শতাংশের অভিজ্ঞতা নেতিবাচক। তথ্য না পেলে আপিলের সুযোগ থাকলেও সেই ব্যবস্থায় দুর্বলতা আছে।

আপিল ব্যবস্থায়ও দুর্বলতা পরিলক্ষিত হয়েছে; জরিপে অংশ নেওয়া আপিল কর্তৃপক্ষের ৩০ শতাংশই তথ্য অধিকার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ পাননি। তথ্য কমিশনের ১০০টি সিদ্ধান্ত পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ৬৩ শতাংশ অভিযোগ শুনানির জন্য গ্রহণ করতেই ৩০ দিনের বেশি সময় ব্যয় হয়েছে। যদিও অভিযোগ গ্রহণের পর ৮১ শতাংশ মামলার নিষ্পত্তি নির্ধারিত সময়ে হয়েছে, কিন্তু কমিশনের পক্ষে তথ্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত আসার পরও ২৩ শতাংশ আবেদনকারী শেষ পর্যন্ত তথ্য পাননি।

সার্বিক পরিস্থিতিতে আইনটি নিয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে সহজ ভাষায় প্রচার চালানোর সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আবেদন ও আপিলের প্রক্রিয়া সহজতর করা, দপ্তরে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের যোগাযোগের তথ্য দৃশ্যমান রাখা এবং কমিশনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun