সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তুরস্কের সঙ্গে সরাসরি বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। ঢাকায় তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস শেনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে মন্ত্রী এই আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের মানুষের আন্তর্জাতিক ভ্রমণের চাহিদা অনেক বেশি। সরাসরি ফ্লাইট চালু হলে এসব অঞ্চলের যাত্রীদের আন্তর্জাতিক সংযোগ ফ্লাইটের জন্য ঢাকায় আসার বাড়তি ভোগান্তি ও যাতায়াত খরচ কমবে। বৈঠকে মন্ত্রী সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে বসবাসকারী বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশির আন্তর্জাতিক ভ্রমণের চাহিদার কথা তুলে ধরেন।
বৈঠকে মন্ত্রী তুরস্কের রাষ্ট্রদূতসহ প্রতিনিধিদলকে জানান, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল কার্যক্রম শুরু হলে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার সক্ষমতা ও সুযোগ আরও বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে তুরস্কের একটি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনস ঢাকা-ইস্তাম্বুল রুটে সপ্তাহে সাতটি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। এই রুটে অতিরিক্ত আরও তিনটি সাপ্তাহিক ফ্লাইট চালুর বিষয়ে তুরস্কের আগ্রহের প্রশংসা করেন মন্ত্রী। উল্লেখ্য, দীর্ঘ আট বছর বিরতির পর গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পুনরায় বিদেশি এয়ারলাইনসের ফ্লাইট চালু হয়েছে, যেখানে ওমানভিত্তিক একটি এয়ারলাইনস বর্তমানে সপ্তাহে তিনটি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। এতে সময় ও যাতায়াতের খরচও কমতে পারে।
বিমান যোগাযোগের বাইরেও দুই দেশের মধ্যে পর্যটন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়গুলো বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। মন্ত্রী জানান, সরকার পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ বা পিপিপি মডেলে সারা দেশের প্রায় ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটনকেন্দ্র উন্নয়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এসব উন্নয়ন প্রকল্পে তুরস্কের বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান তিনি। বাংলাদেশের পর্যটন খাতের টেকসই উন্নয়নে তুরস্কের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সহায়তার বিষয়েও উভয় পক্ষ আলোচনা করেছে। মন্ত্রী জানান, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের আওতায় দেশের ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটনকেন্দ্র উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট এই বৈঠকে তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস শেন ছাড়াও দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সেলর বিলাল বেলইউর্ট এবং তুরস্কের ওই আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসের বাংলাদেশ প্রতিনিধি ইসলাম গুরে অংশ নেন। পর্যটন ও বিনিয়োগের পাশাপাশি বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য তুরস্কের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়টি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা করা হয়। উভয় পক্ষই বিমান চলাচল ও জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার ব্যাপারে দৃঢ় আগ্রহ প্রকাশ করেছে।