অ্যালকোহল ও মদজাতীয় পণ্যের অবৈধ উৎস অনুসন্ধান, শুল্ক ও ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ এবং অননুমোদিত গ্রাহকের কাছে পণ্য বিক্রির অভিযোগে রাজধানীর চারটি বারে একযোগে অভিযান চালিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বিভিন্ন সংস্থা। শনিবার (৩ অক্টোবর) এনবিআরের জনসংযোগ দপ্তর নিশ্চিত করেছে যে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে চালানো এই বিশেষ অভিযানে বেশ কিছু অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সমন্বিতভাবে অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
অভিযান চালানো প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকায় রয়েছে আরএ ডাব্লিউ ক্যানভাস রেস্টুরেন্ট, হাবিব হোটেল ইন্টারন্যাশনাল, মার্গারিটা লাউঞ্জ এবং ফু ওয়াং বোওলিং অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড। এদের মধ্যে ফু ওয়াং বোওলিং অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের মালিক হলেন আলোচিত ইউটিউবার সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর শেখ নুর ইসলাম। এনবিআরের আওতাধীন কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি) এই অভিযানের জন্য চারটি পৃথক দল গঠন করেছিল। অভিযানে আয়কর গোয়েন্দা ইউনিট, সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি) এবং ঢাকা উত্তরের ভ্যাট কমিশনারেটের কর্মকর্তারা অংশ নিয়েছেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানগুলোর মজুত থাকা মদের বৈধ কাগজপত্র, আমদানি দলিল এবং শুল্ক পরিশোধের নথিপত্র যাচাই করা হচ্ছে। কোনো ধরনের রাজস্ব ফাঁকি বা আইনি ব্যত্যয় পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে থেকেই সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের প্রতিষ্ঠান ‘টস বন্ড প্রাইভেট লিমিটেড’-এর কার্যক্রম নিয়ে গোয়েন্দারা নজরদারি করছিলেন। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে শুল্কমুক্ত পণ্য অবৈধভাবে খোলাবাজারে বিক্রির অভিযোগ থাকায় গত কয়েক মাস ধরে অনুসন্ধান চলছিল। ইতিমধ্যে টস বন্ডের অনুমোদিত ওয়্যারহাউসের বাইরে আরও দুটি অননুমোদিত গুদামে মদের মজুত পাওয়ায় চারটি ওয়্যারহাউসই সিলগালা করেছে সিআইআইডি। অভিযানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সরেজমিনে পরিদর্শন, তল্লাশি, নথিপত্র যাচাই-বাছাই এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পণ্য আটকের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ডিপ্লোম্যাটিক ওয়্যারহাউস ‘টস বন্ড’ বিদেশি কূটনীতিকদের শুল্কমুক্ত অ্যালকোহল সরবরাহ করে।
উল্লেখ্য যে, এর আগে মিরপুরে নিজের স্টুডিওতে হামলার ঘটনার পর সালমান মুক্তাদির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করে ক্ষমতাসীনদের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছিলেন। এরপরই ৩০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) তার ব্যাংক হিসাবের যাবতীয় তথ্য ও লেনদেনের বিবরণ তলব করে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় এখন রাজস্ব সংক্রান্ত এই বিশেষ অভিযানটিকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এনবিআর। এতে তিনি ওই ঘটনার জন্য ক্ষমতাসীনদের দায়ী করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।