1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫২ পূর্বাহ্ন

মালয়েশিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন বাংলাদেশি তরুণ

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬

ইমরানের অকাল প্রস্থান ও পারিবারিক স্বপ্ন

সাত বছর মালয়েশিয়ায় কঠোর পরিশ্রমের পর গত ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে দেশে ফিরেছিলেন সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের কাঠিয়ার গট্টি গ্রামের তরুণ ইমরান হোসেন ওরফে উজ্জল সিকদার। পরিবারের সুখের আশায় প্রবাস জীবন শেষে স্থায়ীভাবে দেশে ফিরে আসার পরিকল্পনা ছিল তার। দেশে ফেরার এক মাস পর ১০ অক্টোবর বাবা-মায়ের পছন্দের পাত্রী লামিয়াকে বিয়ে করেন তিনি। কিন্তু বিয়ের মাত্র তিন মাস পর সংসারের প্রয়োজনে আবারও তাকে মালয়েশিয়ায় ফিরে যেতে হয়। পরিবারের বড় সন্তান হিসেবে সবসময়ই তার লক্ষ্য ছিল দ্রুত আর্থিক অবস্থা বদলে ফেলে স্থায়ীভাবে দেশে বসতি গড়া। ‘প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের ছাদের সৌরবিদ্যুৎ থেকে জাতীয় গ্রিডে ১২০০ ইউনিট সরবরাহ’। যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব বাণিজ্যকে ঔপনিবেশিক যুগে নিয়ে যাচ্ছে: রেহমান সোবহান। দেশে ফিরে আসতে চেয়েছিলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন মালয়েশিয়াতেই। ব্রাজিল ৪ গোলে জিতলেও নজরকাড়ল ভারতের পারফরম্যান্স। প্রবাসে আরও কিছুদিন কাজ করে দেশে ফিরে স্থায়ীভাবে বসবাস করার কথাই ভেবেছিলেন ২৭ বছর বয়সী ইমরান। ইমরানের পরিবার সূত্রে জানা যায়, সংসারের আর্থিক সংকটের কারণে ২০১৭ সালে ১৮ বছর বয়সে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান তিনি।

দুর্ঘটনার বিবরণ ও তথ্য

  • ঘটনার সময়: ২ অক্টোবর শুক্রবার, স্থানীয় সময় রাত ৮টা (বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টা)।
  • স্থান: পেরাকের ইপো আয় টাওয়ার এলাকা।
  • পেশা: একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অধীনে বিভিন্ন এলাকায় ওষুধ সরবরাহের কাজ করতেন।
  • ঘটনার বিবরণ: মোটরসাইকেলে করে ওষুধ পৌঁছে দিতে যাওয়ার সময় সহকর্মীর সাথে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তিনি।

ইমরানের বাবা কালাম সিকদার কৃষক। কৃষিকাজের পাশাপাশি সন্তানের পাঠানো অর্থে নার্সারি ব্যবসা শুরু করেছিলেন তিনি। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, মালয়েশিয়ায় থাকা অবস্থায় ইমরান নিয়মিত মা-বাবা ও স্ত্রীর সাথে কথা বলতেন এবং অচিরেই দেশে ফিরে আসার দৃঢ় ইচ্ছার কথা জানাতেন। কিন্তু আগামী দুই মাসের মধ্যে কাজ ছেড়ে পাকাপাকিভাবে দেশে ফেরার যে পরিকল্পনা তিনি করেছিলেন, সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। সন্তান হারানোর শোকে কাতর বাবা কালাম সিকদার ছেলের মরদেহ শেষবারের মতো নিজ বাড়িতে দেখার আকুতি জানিয়েছেন। স্বজনদের বলতেন, অনেক তো হলো বিদেশে থাকা, এবার দেশে ফিরে পরিবারের সঙ্গে থাকবেন এবং কিছু একটা করে সংসার চালাবেন। মালয়েশিয়ায় ইমরানের সঙ্গে একই কোম্পানিতে কাজ করেন তার আত্মীয় আরমান শেখ।

মরদেহ দেশে ফেরাতে সরকারি উদ্যোগ

ইমরানের পরিবার মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারি সহায়তা চেয়েছে। সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দবির উদ্দিন জানান, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী মৃতদেহ ফিরিয়ে আনার জন্য সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এছাড়া ইমরান যে প্রতিষ্ঠানের অধীনে কর্মরত ছিলেন, তাদের কাছ থেকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ আদায়ের বিষয়েও প্রশাসন থেকে উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun