উয়েফা নেশন্স লিগে নিজেদের মাঠে ক্রোয়েশিয়াকে ৭-০ গোলে বিধ্বস্ত করে বড় জয় পেয়েছে ইংল্যান্ড। শনিবার (৩ অক্টোবর) রাতে এইচএনকে রিজেকা স্টেডিয়ামে টমাস টুখেলের শিষ্যদের তোপের মুখে পড়ে স্বাগতিকরা। গ্যালারিতে উপস্থিত প্রায় ৬,২০০ ক্ষুদে দর্শকের সামনে ইংল্যান্ডের আক্রমণভাগের দাপটে খড়কুটোর মতো উড়ে গেছে ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণভাগ। এর আগে ২০১৮ সালে স্পেনের কাছে ৬-০ গোলে হারের তিক্ত অভিজ্ঞতা ছিল ক্রোয়েশিয়ার, যা ছাপিয়ে এবার তারা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হারল। উয়েফা নেশন্স লিগে ক্রোয়েশিয়াকে তাদেরই মাটিতে ৭-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে তাণ্ডব চালিয়েছে ইংল্যান্ড। তবে বিশেষ নিয়মে স্টেডিয়ামে প্রায় ৬,২০০ স্থানীয় শিশুকে উপস্থিত থাকার সুযোগ দেওয়া হয়। গ্যালারিতে এই ক্ষুদে দর্শকদের সামনে পুরো ৯০ মিনিটে ইংল্যান্ডের আক্রমণভাগের দাপটে খড়কুটোর মতো উড়ে যায় ক্রোয়েশিয়া। ফুটবল ইতিহাসে এটিই ক্রোয়েশিয়া জাতীয় দলের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হার। ক্রোয়েশীয় সমর্থকদের বর্ণবাদী আচরণজনিত শাস্তির কারণে ম্যাচের জন্য দর্শক নিষিদ্ধ করেছিল উয়েফা।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুর্দান্ত ছন্দে থাকা ইংল্যান্ড ৮ মিনিটে প্রথম বড় সুযোগ পায়। জস্কো গভার্দিওলের ভুল পাসের সুযোগ নিয়ে মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ন্ত্রণে নেন মার্ক গেহি। ২১ মিনিটে বুকায়ো সাকার ক্রস থেকে অ্যান্থনি গর্ডন ছয় গজের বক্সে বেলিংহামের দিকে বল বাড়ালে রিয়াল মাদ্রিদ তারকা তা থেকে ব্যবধান ২-০ করেন। ৩৯ মিনিটে জ্যারেল কোয়ানসার নিখুঁত ক্রসে হেড দিয়ে স্কোরশিটে নাম লেখান গর্ডন।
দ্বিতীয় অর্ধে ইংল্যান্ডের আধিপত্য আরও স্পষ্ট হয়। এলিয়ট অ্যান্ডারসনের নিচু ক্রস থেকে স্লাইডিং ফিনিশে হ্যারি কেইন দলের পক্ষে পঞ্চম গোলটি করেন, যা জাতীয় দলের জার্সিতে তার ৮৯তম গোল। ৬৮ মিনিটে কেইনের সহায়তায় সাকা নিজের দ্বিতীয় গোলটি পূর্ণ করেন। এরপর ৮৭ মিনিটে জুড বেলিংহামের থ্রু বল থেকে বদলি হিসেবে নামা মরগান রজার্স ক্রোয়েশিয়ার জালে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন। ম্যাচে জুড বেলিংহাম নিজে ৩টি অ্যাসিস্ট করে জয়ের রূপকার ছিলেন। এছাড়া ম্যাচে অভিষেক হওয়া তরুণ মিডফিল্ডার অ্যালেক্স স্কটসহ ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডের সামনে ৪১ বছর বয়সী লুকা মদরিচ কোনো প্রতিরোধই গড়ে তুলতে পারেননি। ম্যাচে হ্যারি কেইন ও বুকায়ো সাকা দুজনেই জোড়া গোল করে ইংল্যান্ডের এই ঐতিহাসিক জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন। হ্যারি কেইন এবং বুকায়ো সাকার জোড়া গোল এবং জুড বেলিংহামের ৩টি অ্যাসিস্টের ওপর ভর করে রেকর্ড এই জয় তুলে নেয় থ্রি লায়ন্সরা। তার থেকে পাওয়া বল বক্সে বাড়ান জুড বেলিংহাম, যা থেকে চমৎকার ফিনিশিংয়ে দলকে এগিয়ে নেন অধিনায়ক হ্যারি কেইন।