নভেম্বরের শুরুতেই কক্সবাজার আঞ্চলিক বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করা হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীতে বিশ্ব পর্যটন দিবসের এক অনুষ্ঠানে তিনি এই তথ্য জানান। মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে কার্যক্রম শুরু হলে দেশের পর্যটন খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে এবং বিদেশি পর্যটকসহ প্রবাসীদের যাতায়াত ব্যবস্থা আরও সহজ হবে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হলে বিদেশি পর্যটকদের পাশাপাশি দেশের বাইরে বসবাসরত বাংলাদেশিদের কক্সবাজারে যাতায়াতও সহজ হতে পারে।
বর্তমানে জাতীয় জিডিপিতে পর্যটন খাতের অবদান ২ থেকে ৩ শতাংশের মতো। সরকার এই হার ৬ থেকে ৭ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, বাংলাদেশকে একটি পর্যটনকেন্দ্রিক হাব হিসেবে গড়ে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য। কক্সবাজার দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন গন্তব্য হওয়ায় একে কেন্দ্র করে বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এর মাধ্যমে পর্যটকদের সরাসরি আন্তর্জাতিক যোগাযোগের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনে বা জিডিপিতে পর্যটন খাতের অবদান প্রায় ২ থেকে ৩ শতাংশ।
বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে এবারই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ট্যুরিজম অ্যাওয়ার্ড প্রবর্তন করা হয়েছে। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড টেকসই পর্যটন, উদ্ভাবন, ডিজিটাল রূপান্তর, সেবার মান ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের মতো ১৩টি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে এই সম্মাননা প্রদান করেছে। পর্যটন খাতের প্রচার ও প্রসারে অনুষ্ঠানে ১২টি বিষয়ভিত্তিক স্টল স্থাপন করা হয়, যেখানে জিআই পণ্য, স্থানীয় কারুশিল্প, বস্ত্র এবং ঐতিহ্যবাহী খাবারের প্রদর্শনী ছিল অন্যতম আকর্ষণ।
প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে বিভিন্ন স্টলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে দর্শনার্থীদের দেশের দর্শনীয় স্থানগুলোর ভার্চুয়াল অভিজ্ঞতা দেওয়া হয়। আধুনিক, টেকসই ও প্রতিযোগিতামূলক পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে তোলার পাশাপাশি দেশের প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পদগুলো দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরার ওপর জোর দিচ্ছে বর্তমান সরকার। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে এবং দেশের পর্যটন শিল্পের টেকসই উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকতসহ বিভিন্ন পর্যটন আকর্ষণকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক দেশি-বিদেশি পর্যটক এখানে ভ্রমণ করেন। এর মাধ্যমে দর্শনার্থীরা দেশের বিভিন্ন পর্যটনস্থল সম্পর্কে আধুনিক ও আকর্ষণীয় উপায়ে ধারণা নেওয়ার সুযোগ পান।