মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও তেল সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারে। সোমবার ৫ অক্টোবর এশিয়ার লেনদেনে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০২ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ট্রেডিং ইকোনমিকসের তথ্যমতে, এদিন টোকিও সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুড ১০২ দশমিক ৩১ ডলারে লেনদেন হয়, যা আগের দিনের তুলনায় ৬ সেন্ট বা দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ বেশি।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরির মূল কারণ। সমুদ্রপথে তেল সরবরাহের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হওয়ায় এই অঞ্চলে যে কোনো ধরনের ঝুঁকির আশঙ্কায় ব্রেন্ট ক্রুডের দামে বাড়তি ‘রিস্ক প্রিমিয়াম’ বা ঝুঁকি মূল্য যুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি, বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআইয়ের (ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট) দামের ব্যবধান এখন ব্যারেলপ্রতি ১১ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবহন করা তেলের ক্ষেত্রে সমুদ্রপথের বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই মূলত এই দামের পার্থক্য বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। গলফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেলের বাজারে ট্যাংকার সংকটও দাম বাড়ার অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে।
তেল সরবরাহের এই সংকটের পেছনে কেবল ভূ-রাজনৈতিক কারণই নয়, বরং পরিবহন বা লজিস্টিকস খাতের সীমাবদ্ধতাও বড় প্রভাব ফেলছে। বর্তমানে বৈশ্বিক বাজারে ট্যাংকার সংকটের কারণে জাহাজ ভাড়া ও বিমা ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বিশেষ করে বড় আকারের অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ বা ভিএলসিসি (ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার) ব্যবহারের খরচ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় তেল পরিবহনে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে। এতে চূড়ান্ত পর্যায়ে এশিয়ার ক্রেতাদের কাছে পৌঁছানোর আগেই অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ ব্যয় বহুগুণ বেড়ে গেছে, যা বাজারের অস্থিরতাকে আরও উসকে দিচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে অপরিশোধিত তেলের বাজারে মিশ্র প্রবণতা লক্ষ্য করা গেলেও ব্রেন্ট ক্রুড ও মুরবান ক্রুডের দাম ঊর্ধ্বমুখী। তবে এর বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম কিছুটা নিম্নমুখী অবস্থায় রয়েছে। সরবরাহ পথের অনিশ্চয়তা আর উচ্চ পরিবহন খরচের এই চক্রাকার সংকটে জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন এখন বেশ চাপে পড়েছে।