1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম
ভোলাহাটে মোটরসাইকেল-সাইকেল সংঘর্ষে প্রৌঢ় নিহত এআই ফর ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যাওয়ার্ডের চূড়ান্ত পর্বে দুই বাংলাদেশি লালমাইয়ে শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় চট্টগ্রাম থেকে চালক আটক শাহজালাল তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে ৪ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের ড্রাইভিং স্কুলের স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধে কাতারের বড় পদক্ষেপ যুব অধিকার পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সানি সারোয়ার বহিষ্কার ফরিদপুরের সালথায় গৃহবধূর মৃত্যু নিয়ে চাঞ্চল্য: পরিবারের অভিযোগ ‎‎গাজীপুরের কালিয়াকৈরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ট্যাপসের মধ্য দিয়ে ১৩তম জাতীয় গাইড ক্যাম্পের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ফেলে আসা দিন ও বই পড়ার অভ্যাসের গল্পে মোশাররফ কক্সবাজারে ছেলে হারিয়ে নিউজিল্যান্ড ফিরছেন জন এডওয়ার্ড

ইউরোপে চীনের বাণিজ্যিক দাপট: দৈনিক ১০০ কোটি ইউরো ঘাটতি

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে চীনের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক আধিপত্য এবং এর ফলে সৃষ্ট বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি বর্তমানে ব্রাসেলসের জন্য একটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, চীনের সঙ্গে ইউরোপের এই বাণিজ্য ঘাটতি এখন প্রতিদিন ১০০ কোটি ইউরো ছাড়িয়ে গেছে। এই বিশাল ভারসাম্যহীনতা কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং রাজনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও এক ধরনের চাপ তৈরি করছে। ইইউভুক্ত দেশগুলোর অভিযোগ, তাদের বাজার চীনা পণ্যের জন্য যতটা উন্মুক্ত ও সহজলভ্য, চীনে ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর প্রবেশাধিকার তার তুলনায় অনেক বেশি জটিল ও কঠোর। চীনের সঙ্গে তৈরি হওয়া বাণিজ্য ঘাটতি, বিরল খনিজ রপ্তানিতে দেশটির কড়াকড়ি এবং অর্থনৈতিক সম্পর্কে দিন দিন বাড়তে থাকা ভারসাম্যহীনতা মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) জন্য। চীন থেকে ইইউতে পণ্য আমদানির পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইউরোপের সামনে মূল চ্যালেঞ্জ হলো, চীনের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সম্পর্কটি অটুট রেখে কীভাবে নিজেদের অর্থনৈতিক ঝুঁকি হ্রাস করা যায়। দুই অঞ্চলের মধ্যকার এই বাণিজ্যিক জটিলতা নিরসনে বেইজিং থেকে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং জানিয়েছেন, তারা ইউরোপীয় পক্ষের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে আগ্রহী এবং আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান বের করার প্রত্যাশা করছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, বেইজিং এই সংকট নিরসনে সমমর্যাদার ভিত্তিতে সংলাপ এবং গভীর সহযোগিতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। চীনের এই অবস্থানের অর্থ হলো, তারা ইউরোপের একতরফা চাপ বা দাবির মুখে কেবল নতি স্বীকার করতে রাজি নয়, বরং পারস্পরিক মর্যাদাপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমেই বিষয়টি সুরাহা করতে চায়। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিদ্যমান মতভেদ দূর করতে উন্মুক্ত সহযোগিতা এবং সমমর্যাদার ভিত্তিতে সংলাপ অত্যন্ত জরুরি।

বাণিজ্য ঘাটতি ছাড়াও ইউরোপীয় ইউনিয়ন চীনের বিরল খনিজ সম্পদের রপ্তানি নীতি এবং অর্থনৈতিক সম্পর্কের অন্যান্য অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে বেশ চিন্তিত। এই প্রেক্ষাপটে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর কূটনৈতিক উপদেষ্টা ইমানুয়েল বোন আগামী ৯ থেকে ১৩ অক্টোবর চীন সফর করবেন। এই সফরটি দুই পক্ষের মধ্যে চলমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতি প্রশমনে এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনর্বিন্যাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মডার্ন ডিপ্লোমেসির তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপীয় ব্লক এখন চীনের সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনে কৌশলগত নতুন পথের সন্ধানে রয়েছে। একদিকে অর্থনৈতিক নিরাপত্তার স্বার্থে নিজেদের ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা, অন্যদিকে চীনের সঙ্গে বৈশ্বিক বাণিজ্যিক সংযোগ অক্ষুণ্ণ রাখা—এই দুইয়ের ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন ব্রাসেলসের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। সম্প্রতি চীনের বাণিজ্যমন্ত্রী ওয়াং ওয়েনতাওর সঙ্গে বৈঠক করতে চীন সফর করেছেন ইইউয়ের বাণিজ্যবিষয়ক কমিশনার মারোস সেফকোভিচ। বিষয়টি নিয়ে বিগত তিন মাস ধরে চলতে থাকা দ্বিপাক্ষিক আলোচনার ধারাবাহিকতায় মারোস সেফকোভিচের এ সফর। আর মূলত তার এই সফরের পরই এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে নতুন করে। একটি স্থিতিশীল অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক উভয় পক্ষের যৌথ স্বার্থ রক্ষা করবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun