1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম
শান্তিতে নোবেল পাওয়ার দাবি করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প রেমিট্যান্স শাটডাউনের ডাক দেশবিরোধী ও মানবতাবিরোধী: রিজভী ভোলাহাটে মোটরসাইকেল-সাইকেল সংঘর্ষে প্রৌঢ় নিহত এআই ফর ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যাওয়ার্ডের চূড়ান্ত পর্বে দুই বাংলাদেশি লালমাইয়ে শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় চট্টগ্রাম থেকে চালক আটক শাহজালাল তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে ৪ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের ড্রাইভিং স্কুলের স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধে কাতারের বড় পদক্ষেপ যুব অধিকার পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সানি সারোয়ার বহিষ্কার ফরিদপুরের সালথায় গৃহবধূর মৃত্যু নিয়ে চাঞ্চল্য: পরিবারের অভিযোগ ‎‎গাজীপুরের কালিয়াকৈরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ট্যাপসের মধ্য দিয়ে ১৩তম জাতীয় গাইড ক্যাম্পের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি

এলপিজি সংকটে জনদুর্ভোগ, সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দর

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬

সরকার তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) নতুন দর নির্ধারণ করেও বাজারে স্বস্তি ফেরাতে পারেনি। গত ৪ অক্টোবর বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) অক্টোবরের জন্য ১২ কেজি ওজনের একটি সিলিন্ডারের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করে দেয়, যা আগের মাসে ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। তবে বাস্তবে এই নতুন দাম কার্যকরের কোনো ছাপ বাজারে নেই। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গ্রাহকদের ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত খরচ করে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। অর্থাৎ সরকারি তালিকার চেয়ে সিলিন্ডারপ্রতি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দাম নেওয়া হচ্ছে। এলপিজি সিলিন্ডার: পাতে টান পড়েছিল আগেই, এবার কি ভাতেও টান পড়বে।

বাজারে এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটের প্রেক্ষিতে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি ৬ অক্টোবর বিইআরসির কাছে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে। সমিতির ভাষ্যমতে, কোম্পানিগুলো সরকার নির্ধারিত মূল্যের তোয়াক্কা করছে না। এলপিজি কোম্পানিগুলো নতুন মূল্যতালিকা প্রকাশের পর ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৭৪০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করে দিয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, লাইসেন্স ফি, পরিবহন খরচ, লোডিং-আনলোডিং এবং বিদ্যুৎ বিলের মতো আনুষঙ্গিক ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, সরকার নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি করলে প্রতি সিলিন্ডারে ১৫০ টাকা করে লোকসান দিতে হয়। পাঁচ বছর ধরে পরিবেশকদের কমিশন অপরিবর্তিত থাকায় এই আর্থিক সংকট তৈরি হয়েছে বলে তারা মনে করেন। এতে সব মিলে সিলিন্ডারপ্রতি পরিবেশক পর্যায়ে ১৫০ টাকা দরকার। অবশ্য বিইআরসি বলছে, পাইকারি পর্যায়ে বিইআরসি নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৭৪২ টাকা। তাঁরা খুচরা বিক্রেতার কাছে ১ হাজার ৭৯২ টাকায় বিক্রি করার কথা। এখন পরিবেশকেরা এটি বাড়ানোর দাবি করছেন।

সমিতির সভাপতি মো. সেলিম খান স্বাক্ষরিত চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, কোম্পানি থেকে পরিবেশকের গুদাম পর্যন্ত সিলিন্ডার পরিবহনে ৫০ টাকা, শ্রমিক খরচ বাবদ ৩৫ টাকা এবং অন্যান্য প্রশাসনিক ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বাবদ ২৫ টাকা ব্যয় হয়। তারা সিলিন্ডারপ্রতি ৪০ টাকা মুনাফা প্রত্যাশা করেন, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে অসম্ভব। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, যদি বিইআরসি তাদের প্রস্তাবনা বিবেচনা না করে এবং যৌক্তিক দাম সমন্বয় না হয়, তবে বাধ্য হয়েই তারা এলপিজি বিক্রি বন্ধ রাখার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তারা এ বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। সিলিন্ডার ট্রাকে ওঠানো-নামানো ও খুচরা বিক্রেতার কাছে পৌঁছাতে খরচ ৩৫ টাকা। আর কর্মচারী, গোডাউন ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, লাইসেন্স ফি ও অন্যান্য খরচ মেটাতে ২৫ টাকা লাগছে। চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিবেচনা করে ব্যবসায়ীদের ন্যায্য স্বার্থ এবং ভোক্তার স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয় চিঠিতে।

বিইআরসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা ব্যবসায়ীদের চিঠি পেয়েছেন। তবে কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ স্পষ্ট করেছেন যে, গণশুনানি ছাড়া কোনো ধরনের খরচ সমন্বয় করা আইনগতভাবে সম্ভব নয়। বিষয়টি আগামী রোববার কমিশন সভায় আলোচনার এজেন্ডায় রাখা হয়েছে। নতুন কোনো সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত ব্যবসায়ীদের সরকার নির্ধারিত দামেই বিক্রি নিশ্চিত করতে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া হবে। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের এপ্রিল মাস থেকে বিইআরসি এলপিজির দাম নির্ধারণের দায়িত্ব পালন করে আসছে।

দেশে বর্তমানে প্রায় এক কোটি গ্রাহক এলপিজির ওপর নির্ভরশীল, যার ৮০ শতাংশই গৃহস্থালি রান্নার কাজে ব্যবহৃত হয়। এলপিজি আমদানিকারক ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন লোয়াব জানায়, গত দুই মাসে আমদানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল। আগস্টে ১ লাখ ৫৮ হাজার মেট্রিক টন এবং সেপ্টেম্বরে ১ লাখ ৫৬ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি আমদানি করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও সরবরাহ সংকট কাটছে না। বিশেষ করে মেঘনা ফ্রেশ, ওমেরা, আইগ্যাস, যমুনা, পেট্রোম্যাক্স ও বিএমের বাইরে অন্যান্য কোম্পানির সরবরাহ অনিয়মিত হয়ে পড়েছে।

শিল্প ও পরিবহনের জ্বালানি হিসেবেও এলপিজির চাহিদা ব্যাপক। এলপিজি ফিলিং স্টেশন মালিক সমিতির মহাসচিব হাসিন পারভেজ জানান, অনেক স্টেশনে মাসিক চাহিদার তুলনায় মাত্র ৫ থেকে ৬ টন গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে, যেখানে ৩০ টন চাহিদা রয়েছে। গ্যাস না থাকায় স্টেশনগুলো লোকসানে পড়ছে। এদিকে, বাজারে বাড়তি দাম ঠেকাতে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। সংস্থার পরিচালক আতিয়া সুলতানা জানিয়েছেন, ২ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত সারা দেশে ২৪২টি অভিযানে ৪৭৮টি প্রতিষ্ঠানকে ১১ লাখ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তবুও সাধারণ গ্রাহকের ভোগান্তি থামছে না, যা মিরপুরের শেওড়াপাড়ার বাসিন্দা তামান্না আখতারের মতো ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতায় স্পষ্ট।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun