বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নিতে তুরস্কের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন। বুধবার ৭ অক্টোবর সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তিনি তুরস্কের বিমান ধরেন। ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘সেকেন্ড ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন বাংলাদেশ স্টাডিজ’ শীর্ষক সম্মেলনে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন। বিমানবন্দরে তাকে বিদায় জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মো. মোবারক হোসাইন।
আয়োজক প্রতিষ্ঠান ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয় ও সেন্টার ফর পলিসি অ্যান্ড সোশ্যাল রিসার্চ (সিপিএসআর)-এর তথ্য অনুযায়ী, এই সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য হলো ‘বাংলাদেশ ২.০-এর সংস্কারের বহুমাত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং তুরস্ক–বাংলাদেশের সহযোগিতার নতুন দিগন্ত’। সম্মেলনে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামাজিক সংস্কার এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও তুরস্ক ছাড়াও বিভিন্ন দেশের প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ, নীতিনির্ধারক, কূটনীতিক ও গবেষকরা অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সফরটি দলের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিবর্তন এবং সংস্কার প্রক্রিয়া তুলে ধরার একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে। সম্মেলনে অংশগ্রহণ শেষে জামায়াত আমির সৌদি আরব যাবেন। সেখানে তিনি পবিত্র ওমরাহ পালন সম্পন্ন করবেন। পুরো সফরসূচি শেষে আগামী ১১ অক্টোবর সকালে তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে। দেশে ফিরে তিনি পুনরায় তার রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মযজ্ঞে যোগ দেবেন।
তুরস্ক সফর এবং ওমরাহ পালনকালে ডা. শফিকুর রহমান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও তুরস্কের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্বের বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। দলের নেতাকর্মীরা তার এই আন্তর্জাতিক সফরকে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে দেখছেন এবং এর মাধ্যমে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের নতুন ভাবমূর্তি ও সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হবে বলে মনে করছেন।