1. admin@ajkerbasundhara.com : admin :
শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম
শান্তিতে নোবেল পাওয়ার দাবি করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প রেমিট্যান্স শাটডাউনের ডাক দেশবিরোধী ও মানবতাবিরোধী: রিজভী ভোলাহাটে মোটরসাইকেল-সাইকেল সংঘর্ষে প্রৌঢ় নিহত এআই ফর ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যাওয়ার্ডের চূড়ান্ত পর্বে দুই বাংলাদেশি লালমাইয়ে শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় চট্টগ্রাম থেকে চালক আটক শাহজালাল তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে ৪ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের ড্রাইভিং স্কুলের স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধে কাতারের বড় পদক্ষেপ যুব অধিকার পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সানি সারোয়ার বহিষ্কার ফরিদপুরের সালথায় গৃহবধূর মৃত্যু নিয়ে চাঞ্চল্য: পরিবারের অভিযোগ ‎‎গাজীপুরের কালিয়াকৈরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ট্যাপসের মধ্য দিয়ে ১৩তম জাতীয় গাইড ক্যাম্পের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি

কক্সবাজারে ছেলে হারিয়ে নিউজিল্যান্ড ফিরছেন জন এডওয়ার্ড

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশ : শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬

বিশ্বভ্রমণের রোমাঞ্চকর স্বপ্ন নিয়ে বাংলাদেশে এসে দীর্ঘ আড়াই বছরের প্রচেষ্টায় কাঠের নৌযান ‘আইল্যান্ড গার্ল’ তৈরি করেছিলেন নিউজিল্যান্ডের নাগরিক জন এডওয়ার্ড পুডনি। কক্সবাজার শহরের এসএম পাড়া এলাকায় স্থানীয় কারিগরদের সহায়তায় তৈরি এই নৌযানেই পরিবারসহ সমুদ্রপথে নিজ দেশে ফেরার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। কিন্তু চলতি বছর ২৫ আগস্ট কক্সবাজারের মহেশখালী চ্যানেলের সোনাদিয়া মোহনায় তীব্র স্রোত ও ঢেউয়ের কবলে পড়ে নৌযানটি ডুবে গেলে ভেঙে যায় তাঁদের সেই দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। এই দুর্ঘটনায় জন এডওয়ার্ডের ১৬ বছর বয়সী ছেলে আলবার্টের মৃত্যু হয়। আজ শুক্রবার স্ত্রী বেলা ও ১৩ বছর বয়সী ছেলে রালফকে নিয়ে আকাশপথে নিউজিল্যান্ডে ফিরে যাচ্ছেন জন এডওয়ার্ড। তবে তাঁদের স্বপ্নের নৌযানটি এখন বাঁকখালী নদীর তীরে পড়ে আছে। পরিকল্পনা ছিল, এই নৌযানে করেই সমুদ্র পাড়ি দিয়ে নিজ দেশে ফিরবেন। কয়েক মিনিটের মধ্যে অপর অংশটিও ডুবে যায়। নৌযানটি ডুবে যাওয়ার পর পরিবারের চার সদস্য সাগরে পড়ে যান। পরে সেটি আলবার্টের বলে শনাক্ত করা হয়।

দুর্ঘটনার দিন সকালে নাজিরারটেক থেকে চট্টগ্রামের দিকে যাত্রা করেছিলেন তাঁরা। প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় জেলে আবদুর রহমানের ভাষ্যমতে, দুটি কাঠের নৌযান জোড়া দিয়ে তৈরি ‘আইল্যান্ড গার্ল’ প্রবল ঢেউয়ের তোড়ে সংযোগস্থল বিচ্ছিন্ন হয়ে ডুবে যায়। পরিবারের ভাষ্যমতে, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন আলবার্ট সাঁতার জানত না এবং দুর্ঘটনার সময় তার লাইফ জ্যাকেটের ক্লিপ ঠিকমতো লাগানো ছিল না। ঘটনার পরদিন ২৬ আগস্ট কক্সবাজারের সমিতিপাড়া উপকূলে আলবার্টের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, আইনি প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্ত শেষে নিউজিল্যান্ড দূতাবাস ও পরিবারের সম্মতিতে ১৫ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার শহরের একটি হিন্দু শ্মশানে আলবার্টের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। তাঁকে উদ্ধারে দুর্ঘটনার পর থেকেই সাগর ও উপকূলে তল্লাশি শুরু হয়। পরদিন ২৬ আগস্ট সকাল থেকে আবার অনুসন্ধানে নামেন কোস্টগার্ড, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, লাইফগার্ড ও স্থানীয় জেলেরা। ওই দিন বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে কক্সবাজার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সমিতিপাড়া উপকূলে একটি মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, ভিসার মেয়াদ–সংক্রান্ত বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে তাঁরা সমুদ্রপথে চট্টগ্রামের দিকে যাচ্ছিলেন।

দূতাবাস না থাকায় শ্রীলঙ্কায় অবস্থিত নিউজিল্যান্ড দূতাবাসের সহযোগিতায় পরিবারের সদস্যদের দেশে ফেরার যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের ইনচার্জ সহকারী কমিশনার মাহমুদুর রহমান জানান, দুর্ঘটনার পর থেকেই পরিবারটিকে পর্যটন করপোরেশনের মোটেল শৈবালে রাখা হয়েছিল এবং তাদের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছিল। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসনীম জাহান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত নৌযানটি এখন কোস্টগার্ডের হেফাজতে রয়েছে। পরিবারটির পাসপোর্টসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র হারিয়ে যাওয়ায় বিকল্প ব্যবস্থায় তাদের ভ্রমণের আয়োজন করা হয়েছে।

পরিবারটির এই দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রার পরিকল্পনা নিয়ে আগে থেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল কোস্টগার্ড। কোস্টগার্ড পূর্ব জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বিবেচনায় রেখে পরিবারটিকে সমুদ্রযাত্রার পরিবর্তে অন্য পথে ভ্রমণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তবে তাঁরা নিজস্ব পরিকল্পনায় অবিচল ছিলেন। উল্লেখ্য, এর আগেও চলতি বছরের ৭ এপ্রিল বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে নৌযানটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে পরিবারটি সোনাদিয়া দ্বীপে আশ্রয় নেয়। সে সময় দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হয়ে তাদের পাসপোর্ট, ক্যামেরা, মুঠোফোন ও ডলার লুট হয়েছিল। ১০ এপ্রিল কোস্টগার্ড অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করে এবং অধিকাংশ মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

স্থানীয় সহযোগী আবদুর রউফ জানান, নৌযানটি নির্মাণে দেড় কোটি টাকারও বেশি ব্যয় হয়েছিল। শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কক্ষ, রান্নাঘর ও ফ্রিজসহ আধুনিক সুবিধাসমৃদ্ধ এই নৌযানটির নকশা ও আকার স্থানীয়দের নজর কেড়েছিল। তবে সমুদ্রপথে প্রায় ১১ হাজার কিলোমিটারের এই দীর্ঘ যাত্রার ঝুঁকি সম্পর্কে জেলা প্রশাসন অবগত ছিল না বলে জানান পর্যটন সেলের ইনচার্জ মাহমুদুর রহমান। আজ শুক্রবার রাতেই তাঁরা নিউজিল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
২০২৬ © আজকের বসুন্ধরা কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customization By NewsSun